দৌলতপুরে ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স, দুই মাসে আক্রান্ত ৫৪

প্রকাশ : 25 Sep 2026
দৌলতপুরে ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স, দুই মাসে আক্রান্ত ৫৪

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগ। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উপসর্গ নিয়ে রোগীরা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই উপজেলায় মোট ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত আগস্টে ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


আক্রান্তদের মধ্যে তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগর এলাকার রোহান, হোসেনাবাদ এলাকার আফরিন, সাদিপুর এলাকার মিনহাজ, আমদহ এলাকার সুমন, গোয়ালগ্রাম এলাকার রবিউল, রিফায়েতপুর এলাকার আসমান, ইব্রাহিম ও পচামাদিয়া এলাকার সোহেল রানাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন।


মথুরাপুর এলাকার তাসেন আলী (৪০) জানান, হঠাৎ হাতে ঘা তৈরি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসায় না সারায় দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছেন।


রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজত এলাকার সেলিম হোসেন (৩৩) জানান, গরুর মাংস কাটার সময় হাতে কেটে যায়, পরে সেখানে ঘা সৃষ্টি হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবনের পর তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ।


চিকিৎসকরা জানান, অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়ার মাংস কাটা, চামড়া বা দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার সময় জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। হাতে বা শরীরে কাটা-ক্ষত থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।


এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, "অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত পশু জবাই করা কিংবা মাংস ও দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। অসুস্থ বা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু জবাই ও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকতে হবে।"


তিনি আরও বলেন, আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসাধীন। এতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই না করা, এসব পশুর মাংস কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং আক্রান্ত পশুর দেহাবশেষ খালি হাতে না ধরার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


সম্পর্কিত খবর

;