আমি সব জানি, বাংলাদেশের ‘বড় হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে মমতা

প্রকাশ : 02 Jun 2026
আমি সব জানি, বাংলাদেশের ‘বড় হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি ‘বড় হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন। মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ কলকাতার ধর্মতলায় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক ধরনা কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সম্পর্কে তিনি সব জানেন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ নেতৃত্বের যোগসূত্র রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, বাংলাদেশের ওই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল বলে তিনি জানান। তিনি আরও দাবি করেন, গ্রেফতারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বিষয়টি চেপে যেতে বলেছিলেন। তবে তিনি কারও নাম প্রকাশ করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। মমতার ভাষায়, “আমি সব জানি। কিন্তু নাম বলব না। নাম বললে বাংলাদেশে অশান্তি হবে। দেশের স্বার্থে আমি চুপ থাকছি”। 


তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর এটি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাস্তার কর্মসূচি। ভোটে কারচুপি, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, রেলের হকার উচ্ছেদ অভিযান এবং নিট পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে এই ধরনার ডাক দেওয়া হয়। কলকাতা পুলিশ প্রথমে কর্মসূচির অনুমতি না দিলেও মমতা ঘোষণা দেন, অনুমতি না পেলেও তিনি ধর্না করবেন, প্রয়োজনে গ্রেফতার হবেন। 


ধর্না মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলের ১২ জন কর্মী খুন হয়েছেন এবং হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন”। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালি-ভাষীদের টার্গেট করছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। 


উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলকে হারিয়ে সরকার গঠন করে। ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃণমূল ২২০-২৩০টি আসন পেত। নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে মমতার নতুন অভিযোগ ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 


সম্পর্কিত খবর

;