স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার সকালে তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় ১ জনসহ মোট ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে আসবে।”
মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুকে আসামি করা হয়েছে।
পাশাপাশি আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে ভূমিকা রাখেন তারা।
বর্তমানে ৯ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, শাহরিয়ার কবির, ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবু।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। ওই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম ২০২৫ সালে ৯৩ জনের তালিকা প্রকাশ করে, মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ২০২১ সালে ৬১ জনের নাম প্রকাশ করে এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘শহীদনামা’ বইয়ে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হেফাজতে ইসলামের পক্ষে আজিজুল হক ইসলামাবাদী শেখ হাসিনাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে তদন্তে আসামির সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২১ জুলাই এই তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে। এরপর ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি'র সভাপতিত্বে আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক স ...
স্টাফ রিপোর্টার: এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের তিন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে নয়াদিল্লির উ ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা ...
স্টাফ রিপোর্টার: মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য। এছাড়া জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাসহ মানব ...
সব মন্তব্য
No Comments