তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির প্রথম জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

প্রকাশ : 05 Jul 2026
তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির প্রথম জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি জানাজার ইমামতি করেন। 


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (৪ জুলাই) থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয় এবং সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। রোববার সকাল থেকে তেহরানের মূল সড়কগুলোতে কালো পোশাক পরা লাখো শোকাহত মানুষের ঢল নামে। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলেও ভিড় সামলাতে আয়োজকরা পানি ছিটানো ও ঠান্ডা পানীয় সরবরাহ করেন। 


খামেনির কফিনের পাশে তার পরিবারের চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়, যাদের মধ্যে ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরাও রয়েছে। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন। 


সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে প্রধান জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে, এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় স্মরণ অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে দাফন করা হবে। 


আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও বহু রাষ্ট্রনেতা ও প্রতিনিধি তেহরানে এসেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নেজার আমেদি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমানসহ চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান।ভারতের পক্ষে বিহারের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা উপস্থিত ছিলেন। 


উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। ইসলামি আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন বাধ্যতামূলক হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম হিসেবে ১২৬ দিন পর এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। 


সম্পর্কিত খবর

;