মিরপুরের ফ্ল্যাটে মৃত নূরজাহান বেগমের ছেলে-মেয়ের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশ : 02 Jun 2026
মিরপুরের ফ্ল্যাটে মৃত নূরজাহান বেগমের ছেলে-মেয়ের পরিচয় শনাক্ত

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর মিরপুর-১১, সি-ব্লক, ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া নূরজাহান বেগমের [বয়স ৭২-৭৫] তিন ছেলে ও এক মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। মেয়ের বাসার একটি অপরিচ্ছন্ন কক্ষে কয়েকদিন আগে মারা যান তিনি। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘরটি ছিল আবর্জনা ও দুর্গন্ধে ভরা। ৩১ মে রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে। 


নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তার কর্মস্থল মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনি ১৯৮৬ সালে মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চবিদ্যালয় হতে এসএসসি ও ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন প্রথম বিভাগে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেন ১৯৯৫ সালে। সরকারী চাকরিতে যোগদানের পর পরিকল্পনা কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই স্কুল অফ পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট হতে এমপিপি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। একসময় সরকারী কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পের উপ-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।


নূরজাহান বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং বেসরকারি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি। তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৩২ ব্যাচের প্রাক্তন ক্যাডেট। ১৯৮৯ সালে এসএসসি ও ১৯৯১ সালে এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৮ সালে বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ও ২০০১ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। তার রয়েছে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে কম্পিউটিং সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি।


নূরজাহান বেগমের কন্যা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা মিরপুরের ইম্পেরিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা। মা তার বাসার একটি পৃথক কক্ষে থাকতেন। কয়েকদিন সাড়া না পেয়ে মেয়ে নার্স ডাকলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আরেক ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডা প্রবাসী, তার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।


পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নূরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত—একজন যুগ্মসচিব, একজন বুয়েট অধ্যাপক, আরেকজন কানাডা প্রবাসী। মেয়ের জামাতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারপরও মা ছিলেন চরম অবহেলায়।


ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বয়স্ক ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করছেন এবং মরদেহ উদ্ধারে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্ল্যাটের ছবিতে দেখা যায়, কক্ষটি আবর্জনায় ভরা, বিছানায় ছড়ানো-ছিটানো কাপড় ও প্লাস্টিক। ঘটনার পর “ছেলে যুগ্মসচিব ও বুয়েট শিক্ষক, তারপরও ফাঁকা বাড়িতে মিললো মায়ের মরদেহ” শিরোনামে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তদন্ত চলছে। 


সম্পর্কিত খবর

;