ঈদযাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জনের মৃত্যু, আহত ৮৩৭

প্রকাশ : 04 Jun 2026
ঈদযাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জনের মৃত্যু, আহত ৮৩৭

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে দেশে ৩২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ২২ জন। বৃহস্পতিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


সংগঠনটি জানায়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১২ জুন পর্যন্ত এই ১৩ দিনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৩৮ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেলে। ১৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৯ জন, যা মোট নিহতের ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১০৮টি (৩৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১২৫টি (৩৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৫৪টি (১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৬টি (১১ দশমিক ১৪ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে, ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন।


দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংস্থাটি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-বোনাস না পেয়ে অসন্তোষ, ট্রাফিক আইন না মানা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, রাস্তায় চাঁদাবাজি, পথচারীদের অসতর্কতা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের দুই দিনে শুধু ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। এই বাস্তবতায় সারাদেশে আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৯টি দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত এবং নৌপথে ১২টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন।


গত বছরের ঈদুল আজহায় ১৫ দিনে ৩০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন নিহত এবং ৭৬২ জন আহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এবার দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।


সম্পর্কিত খবর

;