ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাতের আঁধারে গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পরিজা

প্রকাশ : 20 May 2024
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাতের আঁধারে গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পরিজা

ডেস্ক রিপোর্ট: রমনা পার্ক - সোহরাওয়ার্দী উদ্যান- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার টিকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সবুজ বলয়ের অন্যতম একটি। এই সবুজ বলয় ঢাকার তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ু দূষণ ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে, ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্বরণ, অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। পরিবেশ ও জলাবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা)’র সভাপতি প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহান ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল এক বিবৃতিতে রাতের আঁধারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু বারবার এই উদ্যোন থেকে বৃক্ষ নিধনের যে চক্রান্ত তার তীব্র নিন্দা ও জানাই আমরা।
পরিজাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সচেতন মহল, ব্যক্তি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাবগাম্ভীর্য পরিপন্থী অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের জন্য গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতিপূর্বে পরিবেশবিদসহ অন্যান্য সচেতন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে গাছ না কেটে এবং পরিবেশ সমুন্নত রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাজ চলমান রাখা গণতান্ত্রিক সরকারের বিচক্ষণ, দায়িত্বশীল এবং গণবান্ধব একটি সিন্ধান্ত ছিল। যা সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাটকোর্ট বেঞ্চ ২০১০ সালে কয়েক দফা নির্দেশনা প্রদান করে। নির্দেশনায় বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা নিছক একটি এলাকা নয়। এই এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে এবং এর একটি ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্য আছে। এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসাবে সংরক্ষেণের দাবি রাখে। একাত্তর পরবর্তী সব ধরনের স্থাপনা শিশু পার্ক, মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ফুলের মার্কেট সরিয়ে নেয়া এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এমন কোনো স্থাপনা থাকা উচিত নয় যা এই এলাকার ইতিহাস-ঐহিত্যকে বিন্দুমাত্র ¤øান করতে পারে। পরিবেশগত দিক থেকে তা আরও বিধেয় নয়। কারণ এলাকাটি ঢাকা শহরের দেহে ফুসফুসের মতো অবস্থান করছে। কোনোভাবেই একে রোগাক্রন্ত করা যায় না। যেহেতু স¥রণকাল থেকে এটা উদ্যান হিসেবে পরিচিত সেহেতু ২০০০ সালের ৩৬ নং আইন অনুসারে সোহরাওয়ার্দী ’উদ্যান’ সংজ্ঞার আওতাধীন এবং এই জায়গার শ্রেণি সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় মেট্রো স্টেশন, গণপরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে। এটি একটি গণস্থাপনা, তাই গণপরিবহন থাকাই যথেষ্ট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের সাথে সাথে মানুষ শ্রদ্ধা আর ভালবাসার সাথে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানবে, অনুভব ও ধারণ করবে। এই উদ্যান সাধারন কোন বিনোদনের স্থান নয়। উদ্যানের আশেপাশে হাইকোর্ট, তিন নেতার মাজার, জাতীয় কবি কাজী নজরুলের মাজার সংলগ্ন মসজিদগুলোকে আধুনিকায়ন এবং সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাবগাম্ভীর্য সমুন্নত রেখে এবং পরিবেশ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার আলোকে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে নি¤œবর্ণিত সুপারিশসমূহ সদয় বিবেচনার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
১. হাটকোটের ২০১০ সালের নির্দেশনার আলোকে একাত্তর পরবর্তী সব ধরনের স্থাপনা শিশু পার্ক, মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ফুলের মার্কেট সরিয়ে নেয়া।
২. গাছপালা রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৩. নির্বিচারে গাছ নিধন বন্ধ করা। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পাখি ও প্রাণীদের আবাস এবং খাদ্য ব্যবস্থা যেন ধ্বংস না হয় তা লক্ষ্য রাখা এবং নতুন করে তাদের আবাস ও খাদ্যের সংস্থানে সহায়ক গাছ লাগানো।

সম্পর্কিত খবর

;