সংসদে আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮০ মামলা, নিষ্পত্তি হয়েছে ৭

প্রকাশ : 21 Jun 2026
মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮০ মামলা, নিষ্পত্তি হয়েছে ৭

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৮০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।


মন্ত্রী জানান, দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর ২৮৮ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। চলমান ৭৩টি মামলার মধ্যে ২২টি মামলা বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি মামলা তদন্তাধীন। নিষ্পত্তি হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, বাকিদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। একজন আসামি বিচার চলাকালে মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।


সংসদে আইনমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিভাগভিত্তিক হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায়। তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনে দেশের যেকোনো স্থানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে পারেন। ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগ ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রায় দিয়েছে।


সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই রূপান্তর কার্যকর হয়। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন কাঠামোর ফলে ঢাকার বাইরে শাখা কার্যালয় স্থাপন এবং মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আইনি সেবা সম্প্রসারণের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।


প্যানেল আইনজীবীদের ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় দক্ষ আইনজীবীদের অনেকে লিগ্যাল এইডে কাজ করতে আগ্রহী হন না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে।


তবে সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সঙ্গে বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয়ে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির কাঠামোগত পার্থক্য, সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বাধা দূর করে একটি সমন্বিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।


সম্পর্কিত খবর

;