পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গভীর খাদে যাত্রীবাহী বাস, নিহত অন্তত ৪০, আহত ৮

প্রকাশ : 03 Jul 2026
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গভীর খাদে যাত্রীবাহী বাস, নিহত অন্তত ৪০, আহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের শেরানি-ঝোব মহাসড়কের দানাসার এলাকায় যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। শুক্রবার ৩ জুলাই ভোরে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 


বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে পেশোয়ারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসটি দানাসার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ঝোব জেলার জরুরি কেন্দ্রের প্রধান সানাউল্লাহ শেরানি এএফপিকে জানান, বাসটি পাহাড়ি রাস্তায় ২১ থেকে ২৪ মিটার নিচে পড়ে গেছে। 


বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানিয়েছেন, বাসটিতে মোট ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে নিজস্ব যাত্রী ছাড়াও আগে নষ্ট হয়ে যাওয়া আরেকটি বাসের যাত্রীদেরও তুলে নেওয়ায় বাসটি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ছিল। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতি ও ব্রেক ফেইলকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির ডিপিএকে জানান, দ্রুতগতিই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ, তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। 


দুর্ঘটনার পরপরই বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মেডিকেল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহত ৮ জনকে ঝোবের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স, ১২ জন ইএমটি ও ১০ জন হালকা পরিবহন চালক অংশ নেন। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয় বলে জানান শেরানি। 


ডিডব্লিউ উর্দু ও এআরওয়াই নিউজ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে, বাসটির চালক মুরাদ ওরফে বাবু উস্তাদ ডিজেল নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং রাগের মাথায় বাসটি খাদে ফেলে দেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে প্রশাসন ব্রেক ফেইল ও অতিরিক্ত গতির কথা বলছে। 


পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। 


উল্লেখ্য, পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। দুর্বল ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, বেপরোয়া গতি, নিম্নমানের সড়ক নিরাপত্তা ও চালকদের অসতর্কতাকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয়। গত মে মাসেও খাইবার পাখতুনখোয়ায় মিনিবাস দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। 


সম্পর্কিত খবর

;