আওয়ামী লীগ অনুসরণযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়: জি এম কাদের

প্রকাশ : 06 Jul 2024
আওয়ামী লীগ অনুসরণযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়: জি এম কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট: বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলঅম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা চাকরীতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন করছে। আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কোটা পদ্ধতি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটা পদ্ধতি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ এর ১,২,৩ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি। সংবিধান সশোধন করে এটাকে বৈধ করতে পারবে না। মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত ২৯ এর ১,২,৩ ধারা পরিবর্তন করার ক্ষমতা সংবিধানে দেয়া হয়েনি। এদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। আমাদের মধ্যে ডিভাইড এন্ড রুল করে বৈষম্য করা হয়। কিছু সংখ্যক লোককে সুবিধা দিতে বেশির ভাগ মানুষকেই বঞ্চিত করা হয়। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে বাঙালীরা ভুমিকা রেখেছে শুধু বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে। পরবর্তীতে পাকিস্তানীরাও আমাদের সাথে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানীরা আমাদের দারিদ্রসীমার নিচে থাকতে বাধ্য করেছিল। ফলে প্রথমে স্বাধীকার আন্দোলন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ আবার ডিভাইড এন্ড রুলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাথে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। তারা সমাজকে বিভক্ত করেছে। শাষক শ্রেণী এই দেশকে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সম্পত্তি মনে করে। তারা আইনের উর্ধে এবং পছন্দ মতো আইন তৈরী করে। শাসক শ্রেণীর কাছে প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হচ্ছে পিওর আওয়ামী লীগ ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী। অনুগত প্রশাসন ও অনুগত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৈরী করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন, নির্যাতন ও বৈষম্য করার জন্য। সরকারের কাছে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হচ্ছে ভেজাল আওয়ামী লীগ। আর তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হচ্ছি আমরা সাধারণ জনগণ। বাংলাদেশে আমাদের কোনো অধিকার নেই? আমাদের সন্তানদের চাকরি পাওয়ার অধিকার নেই? আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই? প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকদের সার্ভ করার জন্য যে প্রশাসন দরকার তার জন্য অনুপযুক্ত মানুষকেও বসিয়ে দিতে চায় সরকার। আর এজন্যই কোটা পদ্ধতি সৃষ্টি করা হয়েছে। যেহেতু সংবিধান কোটা পদ্ধতি সমর্থন করেনা- তাই, আশংকায় আছি আইনের বাস্তবায়ন কিভাবে করা হয় তা দেখার জন্য। আমরা আশাবাদী হতে চায়। বৈষম্য বিরোধী এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হচ্ছে আমাদের জাতীয় শহীদ মিনার। আমাদের শহীদ মিনার হচ্ছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আত্মাহুতির প্রতীক। আমরা আওয়ামী লীগের এই বৈষম্য মানি না। আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ হচ্ছে বৈষম্যহীন, ন্যয়বিচারভিত্তিক নিজেদের দেশ গড়ার প্রত্যয়। শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে শপথ নিতে হবে আমরা বৈষম্য মানি না। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে এবং উপযুক্ততার ভিত্তিতে দেশ এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগকে কোন বিষয়ে অনুসরণ করবেন না। আওয়ামী লীগ অনুসরণযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়। অত্যাচার ও শোষনের জন্য আওয়ামী লীগ অনুসরণীয় দল হতে পারে। আওয়ামী লীগের কাছে কোন কিছু চাওয়ার জন্য যাবেরন না, তাহলে জনগণ আপনাকে ঘৃণা করবে। বাঁচতে না পারলে বাঁচবেন না। রাজনীতি করতে হলে কষ্ট করতে হবে, ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যেকোন বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এটা পারলেই জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাবে।

শনিবার গাজীপুরের সাগরসৈকত কনভেনশন হলে গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।

সম্পর্কিত খবর

;