কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে সারাদেশে আহত শতাধিক

প্রকাশ : 28 May 2026
কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে সারাদেশে আহত শতাধিক

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আযহার দিন সারাদেশে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে অনভিজ্ঞ হাতে ছুরি-চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় রোগী আসতে থাকে। বেশিরভাগ আহতের হাত, পা ও আঙুলে গভীর কাটাছেঁড়া হয়েছে। অনেকে গরুর শিংয়ের গুঁতো ও লাথিতে আহত হয়েছেন।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধু ঢামেকেই ৮৭ জন রোগী এসেছেন কোরবানির পশু জবাই সংক্রান্ত দুর্ঘটনা নিয়ে। এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটেও একই ধরনের রোগীর চাপ ছিল।


ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৪ জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও অসংখ্য রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে সারাদেশে আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।


চিকিৎসকরা বলছেন, আহতদের বেশিরভাগই পেশাদার কসাই নন। কোরবানির সময় নিজেরাই পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হাত-পা কেটে ফেলেছেন। কেউ কেউ গরু-মহিষ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শিংয়ের গুঁতো ও লাথির শিকার হয়েছেন। এছাড়া পিচ্ছিল জায়গায় পড়ে গিয়েও অনেকে আহত হয়েছেন।


ঢামেকের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দিন বলেন, “প্রতি বছর ঈদুল আযহার দিন এই ধরনের রোগী আমরা পাই। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বেশিরভাগ রোগী এসেছেন হাত ও আঙুল কেটে। অনেকে ধারালো ছুরি ব্যবহারের নিয়ম জানেন না। তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটছে।” তিনি পরামর্শ দেন, অভিজ্ঞ কসাই দিয়ে পশু জবাই ও মাংস কাটানো এবং জবাইয়ের সময় হাতে গ্লাভস ও পায়ে গামবুট ব্যবহার করা উচিত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিবছর ঈদুল আযহার আগে কোরবানির পশু জবাইয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়। এরপরও অসচেতনতা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকেও পশু জবাইয়ের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, পশুকে ভালোভাবে বাঁধা এবং ধারালো অস্ত্র সাবধানে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।


চিকিৎসকরা জানান, কেটে গেলে দ্রুত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধ করতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। গভীর ক্ষত হলে টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়া জরুরি। আগামী বছরগুলোতে দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাদার কসাইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত খবর

;