কারাগারে হাজতির মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ থানায় নির্যাতনে মারা গেছেন

প্রকাশ : 16 Aug 2025
কারাগারে হাজতির মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ থানায় নির্যাতনে মারা গেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ছামির খান (২৫) নামে এক হাজতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে স্বজনদের অভিযোগ, থানায় আটকাবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে তিনি কারাগারে অসুস্থতা অনুভব করলে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে ভর্তি রাখা হয়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ ওবায়দুর রহমহান বলেন, আশুগঞ্জের দরজীসার গ্রামের ছামির খান বিজয়নগর থানার মামলা নং-৩৩ (জি.আর. ২৩৪/২৫, ধারা ৩৯৬/২০১/৩৪) এর আসামি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কারাগারে অসুস্থতা অনুভব করলে কারা হাসপাতালে আমরা তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল পৌনে ৫ টার দিকে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে ভর্তি রাখা হয়। শুক্রবার সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেয়া মৃত্যুর সনদে “জ্বর ও শীতজনিত জটিলতায় হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যর্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উলেøখ করা হয়েছে।

উলেøখ্য, গত ২০জুন বিজয়নগরের টানমনিপুর এলাকায় কচুরিপানা থেকে মজিবুর রহমান নামে এক সিএনজি চালকের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করে। ওই ঘটনায় নিহত মজিবুর রহমানের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ পরদিন ২১ জুন ছামির খানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। 

এদিকে কারাগারে মারা যাওয়া ছামিরের মা মনোয়ারা বেগম ও স্ত্রী সাথী আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিজয়নগর থানার এসআই মাহবুব আলম সরকার গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে ছামিরকে পিটিয়ে আহত করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারে দেখা করতে গেলে ছামির নিজেই তাদের এ কথা জানান। তারা বলেন, জেলখানায় তার শরীরের সর্বত্র ব্যথা করত, কিন্তু ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি।

সম্পর্কিত খবর

;