হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর

লেবাননে অভিযান বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

প্রকাশ : 21 Jun 2026
লেবাননে অভিযান বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে শনিবার ২০ জুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেনাবাহিনীকে “নিরাপত্তা অঞ্চল” থেকে সরে না আসার এবং হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের নির্দেশনা আসে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরের নেতৃত্বে পরিস্থিতি মূল্যায়ন বৈঠকের পর। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের “ইয়েলো লাইন” এর মধ্যে অবাধে চলাচল করতে পারবে। তবে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে সেনাবাহিনী কঠোর জবাব দেবে বলে জানিয়েছে তেল আবিব। 


শুক্রবার বিকেল ৪টায় মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিতে সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে বলা হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবানন থেকে ৫০টির বেশি রকেট ছোড়ার অভিযোগ তুলে পাল্টা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। 


লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে নাবাতিয়ে জেলায় ইসরায়েলি বিমান ও কামান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। নাবাতিয়ে শহর ও এর আশপাশের এক ডজনের বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা হতাহতদের হাসপাতালে নিয়েছে। 


হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের লেবাননের ভূখণ্ডে অবাধ চলাচল মেনে নেবে না তারা। একইসঙ্গে ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটির এমপি হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে তারা “সব লেবানিজ ভূখণ্ডে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি” সমর্থন করেন। 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার শর্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননে সংঘাত বন্ধ হলে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর নেতানিয়াহু ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে নেতানিয়াহুকে “লেবাননের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল” হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং গুঁড়িয়ে দিতে হয় না”। ট্রাম্পের চাপের পরই ইসরায়েল অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। 


এদিকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রয়োজন যতদিন থাকবে ততদিন দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত “নিরাপত্তা অঞ্চল” থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি বলেছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মানতে প্রস্তুত, কিন্তু “আসল প্রশ্ন হলো ইসরায়েলকে কে আগ্রাসন থামাতে বাধ্য করবে”। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় মার্কিন-ইরান বৈঠকও হুমকির মুখে পড়বে। এই বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি। 


সম্পর্কিত খবর

;