ফিটনেসে তিন মহাতারকা: মেসি যোগায়, রোনাল্ডো পিলাটেসে, মদ্রিচ রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডে

প্রকাশ : 20 Jun 2026
ফিটনেসে তিন মহাতারকা: মেসি যোগায়, রোনাল্ডো পিলাটেসে, মদ্রিচ রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট: বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ফুটবল মাঠে রাজত্ব করছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও লুকা মদ্রিচ। ৩৫ পেরোনো এই তিন কিংবদন্তির ফিটনেসের রহস্য কিন্তু এক নয়। কেউ বেছে নিয়েছেন যোগাসন, কেউ পিলাটেস, আবার কেউ ইলাস্টিক ব্যান্ডের রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ও দলীয় সূত্রে উঠে এসেছে তাদের ভিন্নধর্মী প্রস্তুতির বিস্তারিত।


মেসি: যোগা ও স্ট্রেচিংয়ে ইনজুরি এড়ানোই মূলমন্ত্র

২০১৪ সালে পুষ্টিবিদ জুলিয়ানো পোজের পরামর্শে খাদ্যাভ্যাস বদলানোর পর থেকেই মেসির রুটিনে ঢুকেছে যোগাসন ও পিলাটেস। সাবেক সতীর্থ ইভান রাকিটিচ জানিয়েছেন, মেসিকে জিমে খুব একটা দেখা যায় না। বরং ওয়ার্ম-আপে ডাইনামিক স্ট্রেচিং, ইয়োগা ও হালকা বডিওয়েট ট্রেনিং করেন। আর্জেন্টিনার সতীর্থ রদ্রিগো দে পল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য মেসি এখন ‘ডাবল শিফট’ ট্রেনিং করছেন — ক্লাবের বাইরেও আলাদা ট্রেনার নিয়ে দিনে দুইবার ঘাম ঝরান। তার জিমে ভারী ওজন তোলার বদলে স্কোয়াট, লাঞ্জ, গ্লুট ব্রিজ ও কোরের ব্যায়ামে জোর দেন। সঙ্গে প্রতিদিন এক ঘণ্টা স্ট্রেচিং করে পেশির নমনীয়তা ধরে রাখেন। এতেই ৩৮ বছরেও মাঠে গতি ও ভারসাম্য অটুট। 


রোনাল্ডো: পিলাটেস ও কোর অ্যালাইনে ‘বুলেটপ্রুফ’ শরীর

৪১ বছর বয়সেও ৭% বডি ফ্যাট ধরে রাখা রোনাল্ডোর রুটিনে পিলাটেস বড় জায়গা জুড়ে আছে। ফিটনেস ট্রেনার ইয়াসমিন কারাচিওয়ালা ইনস্টাগ্রামে রোনাল্ডোর ‘কোর অ্যালাইন’ মেশিনে পিলাটেস করার ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, ক্যাপশনে লিখেছিলেন — ‘পুরুষেরাও পিলাটেস করে’। রোনাল্ডো নিজেও বলেছেন, সপ্তাহে পাঁচদিন জিমে যান, সঙ্গে পিলাটেস ও নিয়মিত সুইমিং করেন। তার ওয়ার্কআউটে ২৫-৩০ মিনিট কার্ডিও, হাই-ইনটেনসিটি স্প্রিন্ট ও টার্গেটেড ওয়েটের পাশাপাশি কোর স্ট্রেংথের জন্য পিলাটেস রিফর্মার ব্যবহার করেন। পিলাটেস তার ভারসাম্য, নমনীয়তা ও ইনজুরি প্রতিরোধে সাহায্য করে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। এ ছাড়া ক্রায়োথেরাপি চেম্বার, দিনে ৫ বার ৯০ মিনিটের ঘুম ও ৬টি ছোট মিল তার রিকভারির অংশ। 


লুকা মদ্রিচ: দিনে ৪৫ মিনিট, ৮০% কাজ ইলাস্টিক ব্যান্ডে

৪০ বছর বয়সী মদ্রিচের ফিটনেসের রহস্য ‘মাইক্রো-ডোজিং’। ক্রোয়েশিয়ার অধ্যাপক ভ্লাতকো ভুচেটিচ গত ১০ বছর ধরে তাকে প্রতিদিন টেক্সটে ব্যায়ামের রুটিন পাঠান। মদ্রিচ দিনে ৪৫ মিনিট এই রুটিন করেন — ছুটির দিনেও বাদ নেই। প্রোগ্রামের ৮০% জুড়ে থাকে ইলাস্টিক ব্যান্ডের রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম। সকাল, ট্রেনিংয়ের আগে, পরে ও কখনো রাতেও ছোট ছোট সেশনে ভাগ করে স্ট্যান্ডিং হিল রেইজ, পুশ-আপ পিরামিড, ট্রেডমিল স্প্রিন্ট ও ব্যান্ড স্ট্রেচ করেন। ২৮ বছর বয়সে তিনি ৬৫ মিনিটের বেশি উচ্চ গতিতে খেলতে পারতেন না, এখন ৯০ মিনিট দৌড়ান। ভুচেটিচ বলেন, “লুকা ৩৬ বছর পর্যন্ত খেলতে চেয়েছিল, এখন ৪০-এও সে নিয়মিত ৯০ মিনিট খেলে”। রিয়ালের পারফরম্যান্স ম্যানেজার আন্তোনিও পিন্টুসের মতে, মদ্রিচের সাফল্যের কারণ ‘পুষ্টি, ঘুম, রিকভারি ও মানসিকতা’। 


তিন পথ, এক লক্ষ্য

মেসি ভারী জিম এড়িয়ে নমনীয়তা ও কোরে জোর দেন, রোনাল্ডো পিলাটেসে কোর ও ভারসাম্য গড়েন, মদ্রিচ ব্যান্ডের মাইক্রো-ডোজে ইনজুরি ঠেকিয়ে ম্যাচ ফিটনেস ধরে রাখেন। তিনজনের বয়স মিলিয়ে ১১৪ বছর, তবু বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শিরোপার দৌড়ে তারা আবারও ফেভারিট। ফিটনেস কোচদের মতে, বয়স বাড়লে ‘ভারী’ নয়, ‘স্মার্ট’ ট্রেনিংই আসল চাবিকাঠি — আর সেটাই প্রমাণ করছেন এই তিন মহাতারকা।

সম্পর্কিত খবর

;