লিবিয়ায় নিখোঁজ ফরিদপুরের ২৪ তরুণ, চিন্তিত পরিবার

প্রকাশ : 04 Oct 2026
লিবিয়ায় নিখোঁজ ফরিদপুরের ২৪ তরুণ, চিন্তিত পরিবার


অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ভালো চাকরির আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা ও বোয়ালমারী উপজেলার ২৪ তরুণ। ২০২৩ সালে লিবিয়ায় যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বজনদের দাবি, মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে লিবিয়ায় নেওয়ার পর ওই তরুণদের বিভিন্ন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে সন্তানদের জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন পরিবারের সদস্যরা।


পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারভেজ মোল্লা নামের এক দালাল ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণদের লিবিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই তাদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে সালথা উপজেলার রিয়াজ মোল্লা, তুহিন সরদার, ফিরোজ মোল্লা, তানভীর মোল্লা, সালমান মোল্লা, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মো. হাচিবুল হাচান এবং ভাওয়াল ইউনিয়নের বারখাদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামসহ ২৪ জন রয়েছেন।


হাচিবুল হাচানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিন বছর ধরে ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকেন, কখন হয়তো ছেলে ফোন করবে। তিনি সরকারের কাছে তার সন্তানকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।


রবিউল ইসলামের বাবা নান্নু খান বলেন, জমি বিক্রি ও ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন অর্থ-সম্পদ হারানোর পাশাপাশি ছেলেরও কোনো সন্ধান নেই। তিনি বলেন, তাদের আর কোনো চাওয়া নেই, শুধু সন্তানকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চান।


নিখোঁজ তরুণদের উদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে ‘পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থা’র চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৪টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের মধ্যে রয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।


ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালালচক্রের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে পারভেজ মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।




সম্পর্কিত খবর

;