চা শ্রমিকদের ৫% শতাংশ মজুরী ঘোষণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : 11 Sep 2024
চা শ্রমিকদের ৫% শতাংশ মজুরী ঘোষণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল  : প্রতি বছর শতকরা ৫% শতাংশ হারে মজুরী বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।

বিগত সরকারের আমলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের নিম্নতম মজুরী বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে টি গার্ডেন শিল্প সেক্টরে চা শ্রমিকদের জন্য প্রতি বছর এ হারে মজুরী বৃদ্ধির ঘোষণা প্রদান করা হয়।


মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) দুপুরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের লেবার হাউজে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ এ কন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, কোষাধ্যক্ষ পরেশ কালিন্দী প্রমুখ।


লিখিত বক্তব্যে  শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, বাংলাদেশের মূল বাগান ও ফাঁড়ি বাগানসহ মোট ২৩০টি চা বাগান বিদ্যমান। চা উৎপাদন পাকিস্তান আমলে আভ্যন্তরীণ বাজার ও বিদেশে রপ্তানী করলেও মাত্র ৩ (তিন) কোটি কেজি চা উৎপাদীত হতো। বর্তমানে প্রায় ১০২.৯২ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ৫ গুন চা উৎপাদিত হলেও কর্মরত স্থায়ী ও ক্যাজুয়েল শ্রমিকদের সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি, শ্রমিকদের মজুরী ও অনন্যা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি হয়নি। 


নিপেন পাল আরও বলেন, মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী তফসিল (খ) এর ৩নং উপধারায় বর্নিত স্থায়ী/সাময়িক ক্যাজুয়্যাল শ্রমিকদের জন্য এ.বি.সি. এই তিন শ্রেনীতে বিভক্ত করে যথাক্রমে ১৭০.০০, ১৬৯.০০, ১৬৮.০০ টাকা এলাকা ভেদে মজুরী ঘোষনা করা হয়েছে। যা চা শ্রমিকদের কাম্য নয়। 

কিন্তু মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেটে কেন এটা কমিয়ে ১৬৯.০০ হতে ১৬৮.০০ টাকা করা হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। 

চা শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারনের অব্যাহত ধারা ইংরেজ শাসনামলের পর মালিক পক্ষের সংগঠন বিটিএ (বাংলাদেশীয় চা সংসদ) এবং বিসিএসইউ (বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন) একটি দ্বি-পাক্ষিক শ্রমচুক্তির মধ্য দিয়ে দাবীনামা উত্থাপন ও আলোচনা শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরী যত বকেয়া পাওনা হয়, তাহা ২/৩ কিস্তিতে সমভাবে শ্রমিকদের পরিশোধ করা হয়। 

শ্রম আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তফসিল (ঘ) বর্নিত মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেটে ৫নং এর (ক) উপধারায় উৎসব ভাতা ৪৭ দিনের সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি শ্রম বিধিমালা ১১১(৫) ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের মূল মজুরী সমান ২উৎসবে দেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের বর্তমান মূল মজুরী হলো ১৭০.০০ টাকা, সেই হিসেবে বিধিমালায় বর্নিত ৬০ দিনের মজুরীর চা শ্রমিক উৎসব ভাতা হিসেবে পাবে। তাও আবার কাজের দিন হিসাব করে বেশ কম করা হয়। 


এখানে মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেটে এই বিষয়ে শ্রম আইনের বিধিমালা ১১১(৫) উল্লেখ না করে ১৩ দিনের কম হয়েছে (৬০-৪৭=১৩)। 


বিগত মজুরী বোর্ডে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পর পর দুইজন সদস্য ছিলেন। মজুরী বোর্ডের এই সব আলোচনায় শ্রমিকপক্ষের কোন কথা শুনতে না চাইলে পর পর দুই জন সদস্য পদত্যাগ করেন। বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকতে অপরাগতা জানিয়ে মজুরী বোর্ডকে চিঠি দেন। প্রথম জন ইউনিয়নের সাবেক, সাধারন সম্পাদক, জনাব রামভজন কৈরী। তিনি পদত্যাগ করলে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জনাব পংকজ এ কন্দ (সহ সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি-বাচাশ্রই)-কে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনিও মজুরী বোর্ডের অনমনিয়াতার কারনে মজুরী বোর্ড শ্রমিকপক্ষের কোন সুপারিশ না মেনে মালিকপক্ষ যা সুপারিশ করে 




তাকে গুরুত¦ দিয়ে সুপারিশ প্রণয়নের চেষ্টা করলে পংকজ এ কন্দও ইউনিয়ন এর সিন্ধান্ত অনুযায়ী মজুরী বোর্ড হতে নিজের নাম পত্যাহার করে নেন। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশ গেজেট প্রকাশিত এর তফসিল (ঙ) শর্তাবলী (৭) এর প্রকাশিত যা চা শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে ও মালিকের স্বার্থ রক্ষার্থে মালিকপক্ষের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশীয় চা সংসদ  এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর দ্বি-বার্ষিক, দ্বি-পাক্ষিক শ্রমচুক্তিতে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা উৎপাদনশীলতা প্রভৃতি বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সিন্ধান্ত গ্রহনের কথা বলা আছে, কিন্তু মজুরী নির্ধারনের বিষয়ে কিছু বলা নেই অর্থাৎ শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারনের  শ্রমচুক্তিকে র্খব করা হয়েছে। যা চা শিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলে চা শ্রমিকরা মনে করছেন।


তিনি আরও বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির আইন বলবৎ থাকা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা মনে করেন। কারন মজুরী বোর্ডে সবসময় চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের অনান্য প্রতিনিতিদের চাপের মধ্যে থাকে। চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের অভিমত শুনার প্রয়োজন মনে করে না। তাই বার বার আমাদের পদত্যাগ করতে হয়।  

উপরোক্ত মতামতের ভিতিতে এই মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেট গ্রহনযোগ্য নয় বলে আমরা মনে করি।


তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশীয় চা সংসদ এর বিগত ২০২৩-২০২৪খ্রি: এর শ্রমচুক্তির বৈঠক চলমান আছে। কিন্তু দূঃখের বিষয় যে, বাংলাদেশীয় চা সংসদ আমাদের সাথে কোনরুপ আলোচনা ব্যতিরেখে গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪খ্রি: “টি গার্ডেন” শিল্প সেষ্টরে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নিম্নতম মজুরী হারের গেজেট ২০২৩খ্রি: বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি গ্যাজেট জারী করেন। 


অতএব, বিগত সরকারের এই প্রকাশিত মজুরী বৈষম্য গেজেট চা শ্রমিক বান্ধব হয়নি। তাই নতুন একটি বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি।

সম্পর্কিত খবর

;