বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ফরিদপুর, চাঙ্গা ক্রীড়াসামগ্রীর বাজার

প্রকাশ : 24 May 2026
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ফরিদপুর, চাঙ্গা ক্রীড়াসামগ্রীর বাজার

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে ফরিদপুর শহরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। শহরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও জনবহুল এলাকায় এখন দেখা মিলছে নানা দেশের পতাকা, জার্সি, ব্যাজ, স্টিকার ও ক্রীড়া সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এসব পণ্যের চাহিদা ও বেচাকেনা।


বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজারগুলোতে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। এতে একদিকে যেমন ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ বাড়ছে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও তৈরি হয়েছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।


ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে কথা হয় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মোহাম্মদ নাসিরের সঙ্গে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপ উপলক্ষে নানা ধরনের সামগ্রী বিক্রি করছেন। প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে এবং অন্যান্য সময়ের তুলনায় আয়ও ভালো হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, তার দোকানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ব্যাজ ২০ টাকায়, চাবির রিং ৫০ টাকায়, হাতে পরার ব্যাজ ৪০ টাকায় এবং বিভিন্ন খেলোয়াড়ের স্টিকার ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট পতাকা ১০ টাকা এবং বড় পতাকা ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।


মোহাম্মদ নাসির বলেন, “বিশ্বকাপ যত কাছে আসবে, বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বাংলাদেশের পতাকাও অনেকেই কিনছেন।”


এদিকে শহরের জনতা মোড়ের বড় মার্কেটের ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটবল জার্সি, বুট, পতাকা ও বিভিন্ন দলের সমর্থকদের সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণরা।দোকানিরা বলছেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে বছরের এই সময়টিই তাদের জন্য সবচেয়ে জমজমাট মৌসুম।


জনতা মোড়ের একটি ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এবারও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।” আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, “ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে তরুণ-যুবক সবাই জার্সি ও পতাকা কিনতে আসছেন। অনেকেই প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম লেখা জার্সিও খুঁজছেন। আশা করছি বিশ্বকাপ শুরু হলে বিক্রি আরও বাড়বে।”


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে প্রতি বছরই এ ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও আর্থিকভাবে লাভবান হন। শহরের তরুণদের মধ্যেও এখন বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রস্তুতি।


বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে তৈরি হওয়া এই প্রাণচাঞ্চল্য কেবল খেলাপ্রেমীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত খবর

;