চালু হচ্ছে ধোপাজান ও ফাজিলপুর বালিপাথর মহাল, ইজারা স্থগিতের আদেশ বাতিল

প্রকাশ : 14 Jan 2025
চালু হচ্ছে ধোপাজান ও ফাজিলপুর বালিপাথর মহাল, ইজারা স্থগিতের আদেশ বাতিল


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: অবশেষে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর খুলতে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের ফাজিলপুর,ও ধোপাজানসহ সিলেট অঞ্চলের  আটটি বালিপাথর মহাল।  সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা আফরিন মোস্তফা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বের আদেশটি বাতিল করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত পত্রসমূহের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সারা দেশে গেজেটভুক্ত কোয়ারিসমূহের ইজারা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে এ বিভাগের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখের ২৮.০০.০০০০.০২৮.৩১. ০০৪.১৮.১২ (অংশ-১)-১৯ নম্বর স্মারকে, “সারা দেশের গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারি, সিলিকাবালু কোয়ারি, নূরীপাথর, সাদা মাটি উত্তোলনসহ অন্যান্য সকল কোয়ারির ইজারা আপাতত: বন্ধ থাকবে” মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্তটি, এতদ্বারা নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো। এতে করে সুনামগঞ্জসহ সারাদেশ বন্ধ

থাকা সকল পাথর ও বালি মহাল থেকে পাথর, বালু, সাদামাটি উত্তোলনে আর বাধা রইল না।

জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জ - সিলেট অঞ্চলের বালি পাথর উত্তোলন। দীর্ঘদিন অচলাবস্থা থাকায় কোয়ারি নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ব্যবসায়ীরা হয়ে গেছেন দেউলিয়া।  কর্মহীন শ্রমিকের অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।

অন্যদিকে, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাথর লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। এতে সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া কোয়ারি বন্ধ থাকায় বেকার হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক। মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোয়ারির সাথে জড়িত পাথর ও পরিবহন ব্যবসায়ী, বেলচা, বারকি, পরিবহন ও লোড-আনলোড শ্রমিকরা। এই ইস্যুতে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন, প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তারা। অবশেষে দীঘ ৭ বছর পর বালি পাথর মহাল খোলার  সংবাদে আশার আলো দেখছেন সুনামগঞ্জ ধোপাজান  ও ফাজিলপুর  এবং সিলেট অঞ্চলের বালি মিশ্রিত পাথর কোয়ারী সংশ্লিষ্ট  ব্যবসায়ী  ও শ্রমজীবী মানুষ । তাঁরা আশা করছেন  শীঘ্রই বন্ধ থাকা গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারী সমূহের ইজারা কার্যক্রম শুরু হবে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল বলেন" বালি পাথর মহালে খনিজ সম্পদ ঘিরে সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের মাফিয়া চক্র গড়ে উঠেছে, এদের হাত থেকে  বালি পাথর  মহাল রক্ষা করা এবং পরিবেশ সম্মত উপায়ে বালতি,বেলচা,নেটের সাহায্যে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর বালি উত্তোলনে বারকি শ্রমিকদের সাথে আমরা একমত ।  লুটপাট  ও চাঁদাবাজিমুক্ত  শ্রমিক বান্ধব বালি পাথর মহাল আমরা দেখতে চাই।

সুনামগঞ্জ জেলা নদী রক্ষা কমিশনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দুলাল মিয়া বলেন " দেশের  নদীসমূহকে জীবন্ত সত্তা হিসাবে ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত, লুটেরা সিন্ডিকেট যেন নদী ক্ষতি সাধনে লিপ্ত হতে না পারে এই বিষয়ে সচেতন ও কার্যকর পদক্ষেপে গ্রহণ করবেন এবং শ্রমজীবী মানুষ নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন  আমরা সেই প্রত্যাশা করি। সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়া বলেন, বালি পাথর মহাল খোলার সংবাদে আমরা আশার আলো দেখছি গুটিকয়েক লুটপাটকারীর অপরাধে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে কি দূর্বিষহ জীবন যাপন করছে তা আমাদের চেয়ে কেউ ভাল জানেনা। সরকারিভাবে ক্রয় বিক্রয় কেন্দ্র চালু করে বালি পাথর মহাল চালু দাবিতে ৩ ডিসেম্বর আমার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি । উক্ত স্মারকলিপিতে ড্রেজার বোমা বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপে হিসাবে  বালি পাথর মহালের সীমানায়  সরাসরি ইন্জিন চালিত স্টিল বডি নৌকা প্রবেশ বন্ধের দাবি জানাই। আশাকরি  আমাদের দাবি আমলে নিয়ে পরিবেশ বান্ধব উপায়ে বারকি শ্রমিকরা যেভাবে কাজের সুযোগ পায় সেদিকে  প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।

সম্পর্কিত খবর

;