জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো ভাবে তুলে ধরতে হবে ॥ নাগরিক সমাজ

প্রকাশ : 15 Nov 2025
জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো ভাবে তুলে ধরতে হবে ॥ নাগরিক সমাজ


খুলনা অফিস: জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো ভাবে তুলে ধরতে উপকূলের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে অনিশ্চয়তায় আছে তরুণ প্রজন্ম। দুর্যোগপ্রবণ উপকূলের তরুণদের ঝুঁকি সব থেকে বেশি। চাকরি, শিক্ষা, নিরাপদ পানি- সবকিছুর ঝুঁকি নিয়ে তারা বেড়ে উঠছে। তাই ঝুঁকি মোকাবেলায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

আজ শনিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্লোবাল অ্যাকশন ডে উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধ ও সমাবেশে এই আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে উপকূলের বাস্তবতা তুলে ধরে উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আজ উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পানিসংস্থান, স্বাস্থ্য- সবকিছুতে প্রভাব ফেলছে। প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে, নদীভাঙনে মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, নিরাপদ পানির অভাব চরমে। কপ-৩০এ বিশ্ব নেতাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা, উপকূলীয় মানুষের টিকে থাকার লড়াইকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সম্পাদক রণজিৎ কুমার বর্মন বলেন, লবণাক্ততার কারণে উপকূলে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মিষ্টি পানির উৎস নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার এখনো পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখনই জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ না বাড়ালে উপকূলের মানুষ ভবিষ্যতে বড় সংকটে পড়বে। তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে উপকূলের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে আরো সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

জলবায়ু-প্রভাবিত নারী হিরন্ময়ী রানী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আমাদের ঘর ভেসে যায়। এরপর লবণ পানির কারণে জমিতে আর ফসল হয় না। পানযোগ্য পানি পেতে কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়। আমাদের কষ্টগুলো যেন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছায়- এই আশা নিয়েই আজ এখানে এসেছি।

কর্মসূচিতে সুশীল সমাজ, নারী, যুব সম্প্রদায়, কৃষক, জেলে, সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।।

সম্পর্কিত খবর

;