ইউনিয়ন পরিষদে জোর করে গৃহবধূ তালাকের অভিযোগ।

প্রকাশ : 10 Oct 2024
ইউনিয়ন পরিষদে জোর করে গৃহবধূ তালাকের অভিযোগ।

ভেড়ামারা  (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদে গৃহবধূকে সংসার ত্যাগে বাধ্য করে জোরপূর্বক তালাকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। 


উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ষোলো দাগ দক্ষিণ পাড়ার আশরাফুল আলীর ছেলে আল আমীনের স্ত্রী মিতা খাতুন সুষ্ঠু বিচারের আশায় শিশু সন্তান নিয়ে ঘুরছেন।


জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের মাহাতাব উদ্দিনের মেয়ে মিতা খাতুন ও ভেড়ামারা  ষোলদাগ গ্রামের আশরাফুল আলীর ছেলে আল আমীনের বিয়ের পর সন্তান গর্ভে থাকার সময় থেকে তাকে নির্যাতন করা হয়। এসয় তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এক বছর পর  গত ৮ অক্টোবর মিমাংসা সংশ্লিষ্ট বৈঠক

ডাকা হয় বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে বৈঠক পরিচালনাকারীরা একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে তাকে জানিয়ে দেয় তালাক সম্পন্ন হয়ে গেছে।


গৃহবধূ মিতা'র বাবা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, পারিবারিক সম্বন্ধে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মেয়ের সাথে জামাই খারাপ ব্যবহার করতো, চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করতো, কয়েকদিন পরপরই মারধর করে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করতো। আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমার নাতীর জন্ম হলে তারও খোঁজ নিতে আসেনি তাদের কেউ। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বৈঠকের কথা বলে ডেকে আমি এবং আমার মেয়ে সহ আরও একজনকে জিম্মি করে তালাকের কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়,আমরা সেখানে বিষয়টির প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর তারা চড়াও হয়, মারধর করে। এসময় দুই মেম্বারও আক্রমণ করে। দেনমোহর বা সন্তানের অধিকার সম্পর্কে কোনো ফয়সালার কথা বলেনি তারা।


অভিযুক্ত আল-আমীনের এক  প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। মারধর কান্নার আওয়াজ পেতাম মাঝেমধ্যে।  অনেকদিন বউ আসেনা এখানে। শুনলাম গতকাল তালাক হয়েছে।


এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অভিযুক্ত আল-আমীনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত একাধিক ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।


বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রওশন আরা স্বীকার করে জানান, তালাকে স্বাক্ষর নেয়ার আগে তাদের উভয় পক্ষের কাউকেই লিখিত নোটিশ দেয়া হয়নি। সন্তানের ভরনপোষণ সহ দেনাপাওনা নিয়ে আলোচনা হয়নি। চড়াও হওয়া প্রসঙ্গে  ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এটা ভয় দেখানোর জন্য করেছি।


এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

;