ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প, ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা

প্রকাশ : 25 Jun 2026
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প, ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি সান ফেলিপের কাছে এবং দ্বিতীয়টি ইউমারের কাছে আঘাত হানে। দুটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ থেকে ২২ কিলোমিটার গভীরে। এ কারণে কম্পনের তীব্রতা ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার। ভূমিকম্প দুটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কলম্বিয়া, ব্রাজিল, গায়ানা, আরুবা ও কুরাসাও পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে।


রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারাকাসের আলতামিরা এলাকায় একটি ২২ তলা ভবনসহ কয়েক ডজন বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। লা গুয়াইরার হোটেল এদুয়ার্দ পুরোপুরি ধসে গেছে। মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।


এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি জানায়, ভবনগুলোর দুর্বল কাঠামো, ঘনবসতি এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ভূমিকম্প আঘাত হানায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। ৪৪ শতাংশ সম্ভাবনা আছে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াবে এবং ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে তা ১ লাখও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমরা শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাই। সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে হাসপাতালে যোগ দিতে বলা হয়েছে। ২০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের পরপরই কারাকাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন রাস্তায় নেমে আসে। অনেক ভবনের সিঁড়ি ভেঙে পড়েছে, দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের টার্মিনাল কাঁপছে, যাত্রীরা ছোটাছুটি করছেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সিঁড়ি ভেঙে গেছে, পুরো দেয়াল ফেটে গেছে। ছাদ থেকে জিনিসপত্র পড়ছিল। এটা ভয়ংকর ছিল। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে কাজ করছেন। স্থানীয় মেয়র গুস্তাভো দুকে জানিয়েছেন, শুধু চাকাও এলাকাতেই ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লা গুয়াইরা রাজ্যের হতাহতের সংখ্যা এখনও হিসাবের বাইরে।


বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে ‘ডাবলেট আর্থকোয়েক’ বলছেন, যেখানে প্রায় সমান শক্তির দুটি ভূমিকম্প খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানে। এ ধরনের ঘটনায় প্রথম কম্পনে দুর্বল হয়ে যাওয়া ভবন দ্বিতীয় কম্পনে পুরোপুরি ধসে পড়ে। ভেনেজুয়েলা বোকোনো ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। এটি ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থল। ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনের বেশি মারা গিয়েছিল। এবারের ভূমিকম্প তার চেয়েও অনেক শক্তিশালী।


আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে। কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


সম্পর্কিত খবর

;