থাইল্যান্ডের হকার ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষা নিন

প্রকাশ : 01 May 2026
থাইল্যান্ডের হকার ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষা নিন

ডেস্ক রিপোর্ট: মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে আজ, শুক্রবার, সকাল ৯টায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মলিøকা বেগম। বক্তব্য রাখেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা সেকেন্দার হায়াত, সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, মো. বাবুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী জলিল ও রেজাউল করিম প্রমুখ।

সমাবেশে সেকেন্দার হায়াত বলেন, আধুনিক নগর জীবনে ফুটপাত শুধু পথচারীদের চলাচলের জন্য নয়, বরং এটি বহু মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে হকাররা শহরের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির একটি বড় অংশ। অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ থাকায় হাজার হাজার মানুষ ফুটপাতকেন্দ্রিক এই পেশায় যুক্ত। তবে এই বা¯Íবতার পাশাপাশি রয়েছে নানা জটিলতাÑযানজট, পথচারীদের দুর্ভোগ এবং নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজতে হলে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে আন্তর্জাতিক সফল উদাহরণের দিকে । 

তিনি থাইল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে উদ্ধৃতি করে বলেন, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক শহরকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রিট ফুড হাব হিসেবে ধরা হয়। এখানে ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদ না করে বরং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদেরকে শহরের অর্থনীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে “স্ট্রিট ফুড জোন” হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যেখানে হকাররা বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে। এতে শহরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে, একই সঙ্গে হকারদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকে। 

তিনি আরও বলেন, ব্যাংককে হকারদের জন্য লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতিটি হকারকে নিবন্ধিত হতে হয় এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। ফলে কে কোথায় বসবে, কী বিক্রি করবে-এসব বিষয় সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর পাশাপাশি কিছু এলাকায় সময়ভিত্তিক ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হয়Ñদিনে ফুটপাত পথচারীদের জন্য খালি রাখা হয়, আর সন্ধ্যার পর হকাররা বসতে পারে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা। বিশেষ করে খাদ্য বিক্রেতাদের জন্য কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ করা হয়। নিয়মিত তদারকি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, নাগরিকরা নিরাপদ খাবার পাচ্ছে কি-না। এই ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংককের স্ট্রিট ফুড শুধু স্থানীয়দের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন ঢাকা শহরে, হকার সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রায়ই এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। এর মূল কারণ হলো, পরিকল্পনার অভাব এবং পুনর্বাসনের ঘাটতি। থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি যে, হকারদের সমস্যা হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের ৭০ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যায় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং তারা স¯Íায় পণ্য কেনার জন্য ফুটপাতের কেনা কাটার উপর নির্ভরশীল। এই দরিদ্র মানুষগুলো নামিদামি শপিং মলে গিয়ে কেনা কাটার সামর্থ্য রাখে না। ফুটপাত থেকে কেনাকাটা সাধারণ মানুষের একটি অধিকার, কারণ সেখানে তুলনামূলক অনেক কম দামে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পন্য কিনতে পারেন।

সভাপতির বক্তব্যে মলিøকা বেগম বলেন, ফুটপাত ও হকারদের জীবিকা রক্ষা এবং নগর শৃঙ্খলা বজায় রাখাÑএই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা উচিত নয়। সঠিক পরিকল্পনা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে উভয়কেই সমন্বয় করা সম্ভব। থাইল্যান্ড আমাদের দেখিয়েছে যে, ইচ্ছা থাকলে সমাধান সম্ভবÑএখন প্রয়োজন সেই শিক্ষা গ্রহণ করে বা¯Íবায়ন করা।

সমাবেশ শেষে মিছিলটি রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।


সম্পর্কিত খবর

;