Home জাতীয় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা নিতে হলে শরীরচর্চার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পীকার

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা নিতে হলে শরীরচর্চার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পীকার

20

চট্টগ্রাম অফিস: সুস্থ্য ও কর্মক্ষম মানুষই রাষ্ট্রের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। জনগনকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে শরীরচর্চার কোন বিকল্প নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সুস্থ্য জাতি গঠনে প্রতিটি পরিবারকে উদ্যোগী হতে হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করবে। আর মাদক নির্মুলের পদক্ষেপ হিসেবে বিয়ের পূর্বে ডোপ টেস্ট চালু করা প্রয়োজন।
শনিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মোঃ শামসুল হক টুকু হোটেল সীগালে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইডিসিআরসি) এর সহযোগিতায় এবং আর্ক ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি এর উদ্যোগে আয়োজিত “অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চায় উৎসাহ প্রদান” এবং “ধূমপান ও মাদকবিরোধী সভা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান দুটিতে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবির, এমপি, ফখরুল ইমাম, এমপি, মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক, এমপি, জাফর আলম, এমপি, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন, এমপি, মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদার, এমপি, এবং মাদক বিরোধী সভায় সাইমুম সরোয়ার কমল, এমপি ।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, গর্ভবতী মাকে সুস্থ্য রাখতে সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচ্ছে, সুস্থ্য বাচ্চা জন্মদান নিশ্চিত করার জন্য মিডওয়াইফারী ব্যাবস্থা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাসপাতালের ব্যবস্থা করছে রাষ্ট্র। বাচ্চা ও বাচ্চার মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্র তার সাধ্যমত ভূমিকা রাখছে। রাষ্ট্রের সাথে সাথে পরিবারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। শরীরচর্চার মাধ্যমে মানুষের সুস্থ্যতা, কর্মক্ষমতা ও গড় বয়স বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে চিকিৎসা খাতে রাষ্ট্রের ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে।
মোঃ শামসুল হক টুকু বলেন, শরীরচর্চার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন এগুলো করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে অবকাঠামো তৈরি করা, যেমন খেলার মাঠ, হাটার রাস্তা, মানুষকে প্রয়োজনীয় কায়িক শ্রমে বাধ্য করা যায় এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিএলপিএ এর সচিব সৈয়দ মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধের সুপারিশসমূহ ডেপুটি স্পীকারের হাতে তুলে দেয়া হয়।
ধূমপান ও মাদক বিরোধী ভিন্ন একটি সভায় ডেপুটি স্পীকার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণা হিসেবে বিয়ে, চাকুরী, রাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ সকল ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে দেয়া প্রয়োজন। মাদক ও ধূমপায়ীদের জগৎকে সংকুচিত করে দিতে হবে।
“মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ্য সুন্দর জীবন গড়ি” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির উচিৎ নিজের দেহকে সুস্থ্য রাখতে মাদক ও ধূমপান থেকে বিরত থাকা। রাষ্ট্রীয়ভাবে মানুষকে সুস্থ্য বিনোদনের দিকে উৎসাহিত করতে হবে এবং মাদকসেবীদের রাজনীতি ও চাকুরীসহ সব ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে।
“অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চায় উৎসাহ প্রদান” শীর্ষক অনুষ্ঠানে শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এমপির সভাপতিত্বে এবং ধূমপান ও মাদক বিরোধী সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাগণ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।