ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত ফোনালাপ, যুদ্ধ নাকি কূটনীতি তা নিয়ে মতভেদ

প্রকাশ : 22 May 2026
ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত ফোনালাপ, যুদ্ধ নাকি কূটনীতি তা নিয়ে মতভেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মঙ্গলবার উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মার্কিন উদ্যোগে নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এক সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস লিখেছে, ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর “হেয়ার ওয়াজ অন ফায়ার”, অর্থাৎ তিনি চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। 


ফোনালাপে দুই নেতা কাতার ও পাকিস্তানের তৈরি করা একটি “রিভাইজড পিস মেমো” নিয়ে আলোচনা করেন। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি “লেটার অব ইনটেন্ট” স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করবে এবং ৩০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয় থাকবে বলে জানানো হয়। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার পরিকল্পিত “অপারেশন স্লেজহ্যামার” নামের নতুন হামলা স্থগিত করেছেন। 


মার্কিন এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ফোনালাপে মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প চান চুক্তির সুযোগ দেখতে, আর নেতানিয়াহু চান সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, হামলা বিলম্ব করা ভুল এবং ইরানের সামরিক অবকাঠামো আরও দুর্বল করতে অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত। ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরুর জোরালো ইচ্ছা রয়েছে এবং ট্রাম্পের কূটনৈতিক “টালবাহানা” নিয়ে হতাশা বাড়ছে। 


বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড একাডেমিতে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ফাইনাল স্টেজে” রয়েছে। “আমরা একটা সুযোগ দেব। তাড়াহুড়া নেই। চুক্তি হলে ভালো, না হলে কিছুটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে”। তিনি আরও বলেন, “একমাত্র প্রশ্ন হলো, আমরা কি শেষ করব, নাকি তারা কোনো দলিলে স্বাক্ষর করবে”। একই দিনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু “আমি যা চাইব তাই করবে”। 


মধ্যস্থতায় সক্রিয় রয়েছে কাতার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, তেহরান মার্কিন পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করছে। তবে তিনি যোগ করেন, “পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমের জল্পনার বাস্তব ভিত্তি নেই”। 


প্রেক্ষাপট হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা চালায়। ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়, যা ট্রাম্প পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান। এরপর ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে এক দফা শান্তি আলোচনা হলেও চুক্তি হয়নি। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুকে মূল আলোচনায় রেখেছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “না, না, আমরা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নেব। আমরা এটা নেব”। এদিকে ইসরায়েল মনে করছে, শুধু ইউরেনিয়াম নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক মিলিশিয়া ইস্যুও চুক্তিতে থাকা উচিত। 


আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষই সামরিক বিকল্প খোলা রেখেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “সঠিক উত্তর না পেলে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেব। আমরা প্রস্তুত”। 


সম্পর্কিত খবর

;