রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: মরিয়ম বেগম। স্বামী পরিত্যক্তা এক অসহায় গৃহবধুর নাম। এতো অসহায় না দেখলে কেউ বুঝতেই পারবেনা। তিনি ৩ সন্তানের জননী। এই হতদরিদ্র নারীর বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামে। স্বামী জাকির হোসেন ওরফে সুতা জাকিরের কারণে আজ তিনি অসহায়।
ব্যবসার জন্য স্ত্রীকে জামিনদার করে মঠবাড়িয়া ব্রাাক ব্যাংক থেকে জাকির হোসেন ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেয়। যা সুদাসলে ২০ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।
একে একে এই উপজেলার বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে সুচতুর জাকির গোপনে বিক্রি করে দেয় সব জমিজমা। ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করে মঠবাড়িয়া থেকে পালিয়ে যায়। পরে জাকির ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মের বিরুদ্ধে পিরোজপুর অর্থ ঋণ আদালতে এনজিওর পক্ষ থেকে মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং-০৩/১৭।
সেই সময়ে মরিয়ম বেগম মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সাজানো সংসার ছেড়ে ৩ জন সন্তান নিয়ে নানা বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে থেকে অন্য মানুষের ঘরে ঘরে ঝিয়ের কাজ করে ও কাঁথা সেলাই করে সংসার চালাতে থাকেন। এ কাজে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা মরিয়ম বেগমের।
বড় মেয়ে শারমিন আক্তার (১৮), ছেলে রুম্মান (১১) ও ছোট মেয়ে জান্নাতি আক্তারকে নিয়ে সংসারের এ অবস্থায় কোনমতে বেঁচে আছেন। বেশির ভাগ দিনই মা এবং বড় মেয়ে ক্ষুদা নেই বলে ঘরে য়ে খাবার থাকে তা রুম্মান ও জান্নাতিকে খাইয়ে দিয়ে তারা দুজন অনাহারে থাকেন।
এদিকে ওই মামলায় আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয় স্বামী-স্ত্রীর নামে। স্বামীতো পলাতক। মরিয়ম বেগম আছেন মঠবাড়িয়াতেই। সোমবার ৩০ আগস্ট মঠবাড়িয়া থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক এসআই জেন্নাত আলী, উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক এএসআই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও লাবনী আক্তার ওয়ারেন্টের আসামী মরিয়ম বেগমের বাড়িতে যান।
তার বাড়িতে তাকে পেয়ে যান পুলিশের ওই টিম। তবে মরিয়ম বেগমের সংসারের অবস্থা দেখে মনের মানবিকতার ভিতরটায় নাড়া দেয় এএসআই জাহিদুল ইসলাম জাহিদের। মরিয়ম বেগমকে থানায় নিয়ে যাবার সময় তার সন্তানরা যখন কান্নারত অবস্থায় বলতে ছিলো আমরা এখন থাকবো কিভাবে, খাবো কি, ঘরেতো কিছুই নেই। আমাদের মাকে ছেড়ে দেন। মা কিছু করে নাই।
এই কথা গুলো তখন এএসআই জাহিদের কানে বিষাদের সুরে বাজতে ছিলো। কি আর করার ওয়ারেন্টের আসামী। আদালতের আদেশ তামিল করতেই হবে।
থানায় মরিয়ম বেগমকে রেখে মঠবাড়িয়া বাজার থেকে ওই পরিবারের জন্য এক মাসের চাল,ডাল,তেল,আলু, লবন, সাবান, পেয়াজ, মরিচ, হলুদ,চিনি, চাসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন এএসআই জাহিদ হোসেন।
এবিষয়ে তিনি বলেন, মরিয়ম বেগমের সংসারের যে অবস্থা। তার অবর্তমানে এই সংসারের আহার জোগার করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই যতদিন মরিয়ম বেগম জেল হাজতে থাকবেন,ততদিন তার রেশন দিয়ে এই পরিবারকে তিনি সহায়তা করবেন।
প্রসঙ্গত পুলিশের মানবিক এএস আই জাহিদুল ইসলাম এর আগে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় কর্মরত থাকার সময়ও বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এবং নিজ উপজেলা পটুয়াখালির মির্জাগঞ্জে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ভূমিহীনদের দাফনের জন্য ১৭ শতক সম্পত্তি দান করে কবরস্থান নির্মাণ করে দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাজারে হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘট ...
স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় ঐকমত্য ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুনভাবে মেরামত কর ...
স্টাফ রিপোর্টার: ‘কুমিল্লা’ নামেই বিভাগ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে। ব ...
সব মন্তব্য
No Comments