হাসিনা সরকারের করুণ যে পরিনিতি হলো তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে: অধ্যাপক শহিদুল

প্রকাশ : 18 Aug 2024
হাসিনা সরকারের করুণ যে পরিনিতি হলো তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে: অধ্যাপক শহিদুল

ভেড়ামারা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় শেখ হাসিনা ও তার দোসর কর্তৃক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকান্ড সহ সকল হত্যার বিচারের দাবীতে বিএনপির বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


আজ রোববার বিকেলে স্থানীয় বাসষ্টান্ডে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম। 


প্রধান অতিথি  অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, খুনি ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসর কর্তৃক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকান্ড সহ সকল হত্যার বিচার করতে  হবে। এ দাবী এখন বাংলার সব জনগণের। তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি আরও তার বাপ যেমন সেও তেমন খুনি ও স্বৈরাচার। আওয়ামীলীগ ফ্যাসিষ্ট দল। ১৮ বছরের সকল কুবৃত্তির বিচার করে ফাঁসি দিতে হবে।


তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগকে অনুকরণ করে প্রতিশোধ পরায়ণ হবো না। আইনের মাধ্যমে বিচার করবো। এই খুনি ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের যে করুণ পরিনিতি হয়েছে, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।


এদেশের মানুষের উপর খুন, জুলুম, গুম নির্যাতন দখল, চাঁদবাজির হোতা খুনি হাসিনা ও তার দল করেছে। তার ফল তারা পেয়েছে। অবশেষে  ছাত্র -জনতার আন্দোলন ও জনরোষে  নিজে বাচতে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।  তার দলের লোকজন যে সব অপকর্মে লিপ্ত ছিলো তা আমাদের  করলে চলবে না। প্রতিশোধ হাতে তুলে না নিয়ে 

আইনের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। 


পাল্টা প্রতিশোধ না নিয়প দখল, জ্বালাও পোড়াও থেকে বিরত থেকে যে ধৈর্যের পরিচয় আপনারা দিয়েছেন তা বজায় রাখতে হবে।


প্রধান বক্তা এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম তার বক্তব্যে বলেন, সংখ্যালগু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, ভাংচুর জ্বালাও পোড়াও এর যে মিথ্যা অভিযোগ ভারতীয় মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচারণা। এগুলো যে মিথা প্রচারণা তার প্রমাণ ভেড়ামারা শহরের রঘুনাথ মন্দিরে চল্লিশ প্রহরব্যাপী নামযোগ্যকীর্তন নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। তাহলে এই মিথ্যা প্রচারণা কেন? কার স্বার্থে। হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যা লঘু নয় আমরা সবাই বাংলাদেশী এটাই পরিচয়। সম্প্রীতি নষ্টের পায়তারা করবেন না। ১৮ বছরে আওয়ামী লীগ দ্বারা বিএনপির দলীয় ক্ষতিগ্রস্ত  নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সম্পত্তি যারা দখল করেছে তছরুপ করেছে।  এবং শারীরিক অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তারা এখন থানায় গিয়ে  মামলা করে তাদের বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা করুন। সেই সব অপরাধীদের আইনের মাধ্যমে  শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।


উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিহাবুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী রব্বান, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জানবার হোসেন, বিএনপি নেতা নুরউদ্দিন নুরু ভিপি,  প্রচার সম্পাদক জাহিদুর রহমান রঞ্জু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামিম রেজা, সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক বিপ্লব আহমেদ,  উপজেলা সেচ্ছাসেবক দল ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম রোকন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, পৌর যুবদলের আহবায়ক হাফিজুর রহমান জিন্না, সদস্য সচিব নজিবুল হক সুমন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলতামাস আসলাম নিউটন, ছাত্রদল নেতা প্রত্যাশা করিমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিন দুপুর থেকেই শহরের প্রধান সড়ক মিছিলে মিছিলে পরিপুর্ন হয়ে যায়। জনসভা রুপ নেই বিশাল জনসসমুূদ্রে।


সম্পর্কিত খবর

;