কোভিড: রাজশাহীতে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, টালমাটাল চিকিৎসা ব্যবস্থা

প্রকাশ : 12 Jun 2021
No Image

রাজশাহী থেকে রাকিন আবসার অর্নব: রাজশাহী মহানগরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় সাত দিনের লকডাউন দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায় যে, একক জেলা হিসেবে রাজশাহীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওইদিন রাতেই জেলার সার্কিট হাউজে দীর্ঘ সভা শেষে লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার ১৭ই জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে বলে যুগবার্তাকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক জানান, গত ১ জুন থেকে ১২ জুন সকাল পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১১১ জন। এর মধ্যে ৬৪ জনের করোনা পজেটিভ এবং বাকিদের উপসর্গ ছিল।

মন পরিস্থিতে করোনা চিকিৎসাতো দুরের কথা রাজশাহীর মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণও ব্যহত হচ্ছে। স্বাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করনের লখ্যে নানা মহল থেকে বিভিন্ন দাবী তুলে ধরা হয়েছে। উদ্ভত পরিস্থিতিতে করনীয় সম্পর্কে রোটারি ক্লাব অফ রাজশাহীর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রাজশাহী কোর্ট কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি, মনোয়ার হোসেন সেলিম যুগবার্তাকে জানান, রাজশাহী শহরে অবকাঠামো সহ হাসপাতাল ফ্যাসিলিটিজ সম্পন্ন কিছু হাসপাতাল যেমন সদর হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতাল, ইসলামিক হাসপাতাল, বারিন্দ হাসপাতাল রয়েছে যা প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রিকুইজিশন প্রক্রিয়ায় করোনা মহামারীতে ডেডিকেটেড করতে পারে যা সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী হবে।

মানুষের দৈনন্দিন চিকৎসা সেবা প্রদানের জন্য রাজশাহীর দুই স্টেডিয়াম ব্যবহার করে অস্থায়ী ম্যাডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মহানগর নেতৃবৃন্দ।

এই বিষয় নিয়ে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা যুগবার্তাকে জানান, দক্ষীন এশিয়ায় স্বাস্থ্য খ্যাতে বাংলাদেশের বরাদ্দ সর্বনিম্নে। মহামারীর কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় গত দুই বছরে ডাক্তার সংকটেও ভুগছি আমরা। আবার ডেডিকেটেড করোনা হাস্পাতাল গড়তে প্রয়োজন হাই-ফ্লো অক্সিজেনের সু-ব্যবস্থা যা সকল হাসপাতালে নেই। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে করোনা পরিস্থিতি থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে ১০০% জনগনকে ভ্যাক্সিনেশনের আয়তায় আনা। তবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিৎ অন্ততপক্ষে যতদ্রুত সম্ভব ৭০%-৭৫% জনগনকে ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়ার আয়োতায় আনা। কারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের পরিস্থিতে যদি আমরা যায় তবে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতে থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব কিন্তু বাস্তবিক দিক থেকে চিন্তা করলে বাংলাদেশ সেই অবস্থানে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। একইসাথে রাজশাহী অঞ্চলের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সদর হাসপাল চালু করবার বিষয়ে মন্ত্রানলয়ের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে যুগবার্তাকে জানান এই সাংসদ।

লকডাউন সর্বাত্মক সফলের লক্ষ্যে প্রতিদিন মাঠে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। একই সাথে মাস্ক বিতরণসহ নানাবিধ জনসচেতনাতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে চলেছে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

লকডাউন চলাকালীন এই সময় রাজশাহীর সঙ্গে সব রুটের যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে রেল মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে লকডাউন চলাকালে মহানগরীর সব অফিস আদালত, শপিং মল, দোকান, রেঁস্তোরা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও সব ধরণের যানবাহনের চলাচল নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধের দোকান, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ফায়ার সার্ভিস, এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, কাঁচাবাজার ও জরুরি পণ্য সরবরাহকারী গাড়ির চলাচল লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটা তদারকি করতে দোকানপাট ও কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশ ও মেজিস্ট্রেট অবস্থান লক্ষণীয়।

সম্পর্কিত খবর

;