পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা কিভাবে সম্ভব? প্রয়োজন গবেষণা

প্রকাশ : 18 Sep 2024
পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা কিভাবে সম্ভব? প্রয়োজন গবেষণা

বিশ্ববিদ্যালয প্রতিনিধি: বাংলাদেশে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার দাবি নিয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা হয়ে আসছে। পুলিশের কমান্ড যাদের হাতে থাকে তারা তৎকালীন সময়ের সরকার পক্ষের কেউ না কেউ। একটি সরকার গঠন হয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে। এক্ষেত্রে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা কিভাবে সম্ভব? আদৌ কি সম্ভব?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে গবেষণার বিকল্প নেই।


বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আশুলিয়ায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এইউবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসে গবেষণার গুরুত্ব বিষয়ে আয়োজিত এক লেকচারে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. খুরশিদ আলম এই মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, প্রতিটি গবেষণা একেকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে আনে। দেখা যাচ্ছে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আলোচনা প্রচলিত আছে কিন্তু কার্যকরী সমাধানের দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে নেই।


এক্ষেত্রে গবেষণা ছাড়া পরীক্ষামূলক কাজ করে কোন লাভ হবে না। গবেষণার মাধ্যমেই সঠিক সমাধান বের করে এনে পুলিশ বাহিনীকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিয়ে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।


এছাড়াও বর্তমানে গবেষণার ক্ষেত্রে সাহিত্য পর্যালোচনা আগের থেকে অনেক ভাল অবস্থায় পদ্ধতিগত উপায়ে হয়ে থাকে। তাই গবেষণায় আগ্রহীদের যেকোন ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্বে প্রাপ্ত তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে গবেষণার কাজ শুরুর পরামর্শ দেন ড. খুরশিদ।


সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন অনেকে একটি সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে করণীয় হল, শুধুমাত্র প্রশ্ন না তুলে, আলোচনা না করে সে বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা ও সমস্যার সমাধান বের করা। গবেষণাই পারে সার্বিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করতে।


এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ইমেরিটাস প্রফেসর ড. শাহজাহান খান বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে ফলাফলের প্রভাব থাকতেই হবে। আগের থেকে পিএইচডি ডিগ্রির পরিমাণ বেড়েছে। কেবল থিসিস দেখে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে রিসার্চ সম্পন্ন করার পর পাবলিকেশনের বাধ্যবাধকতা চালু করা সময়ের দাবি।


এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: নুরুল ইসলাম গবেষনার গুরুত্বের প্রতি আলোকপাত করে বলেন, সমাজে প্রতিটি বিষয়ের পেছনে গবেষণার অবদান আছে। আজ যদি কৃষিক্ষেত্রে গবেষণা না হত তবে আমাদের না খেয়ে থাকার অবস্থা হত। যেটি কল্পনাতীত।


এইউবি’র সামাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. সায়েদা আখতার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মীর ফারজানা শারমিন। 


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্ট একটি বেসরকারি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থা এবং দেশের একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। সামাজিক ন্যায়বিচার, উন্নয়ন, এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ের ওপর গবেষণা, প্রচার ও সহায়তায় আমাদের ফোকাস। বিআইএসআর ট্রাস্ট সামাজিক পরিবর্তন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের মান উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে। আমাদের কাজ গবেষণা পরিচালনা, শিক্ষামূলক সহায়তা প্রদান, এবং নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেসি করা।

সম্পর্কিত খবর

;