স্কুলছাত্রী ধর্ষণে জড়িতদের দ্রুত সাজার দাবিতে দীঘিনালায় লাঠি ও ঝাড়ু মিছিল

প্রকাশ : 27 Jul 2025
স্কুলছাত্রী ধর্ষণে জড়িতদের দ্রুত সাজার দাবিতে দীঘিনালায় লাঠি ও ঝাড়ু মিছিল

চট্টগ্রাম অফিস: খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দ্রুত সাজা কার্যকর করার দাবিতে দীঘিনালায় লাঠি ও ঝাড়ু মিছিল করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, দীঘিনালা উপজেলা শাখা।


আজ রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) সকাল ১০টায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকার নারীরা বাবুছড়া কলেজ প্রাঙ্গনে জমায়েত হন। এরপর কলেজ সংলগ্ন রাস্তার মোড় থেকে লাঠি ও ঝাড়ু মিছিল শুরু করা হয়। এ সময় ‌’আমার বোন ধর্ষণ কেন প্রশাসনের জবাব চাই’সহ বিভিন্ন শ্লোগানে মিছিলটি বাবুছড়া নোয়াপাড়া চৌমুহনী মোড়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী ও নারী অংশগ্রহণ করেন।


সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের দীঘিনালা উপজেলা সভাপতি মিতালী চাকমার সভাপতিত্বে ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দীঘিনালা উপজেলা শাখার সহসভাপতি মিনু চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রতিভা চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দীঘিনালা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেনাকী চাকমা।


চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা বলেন, পাহাড়ের মা-বোনেরা কোথাও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে না। আজকে জুম্ম নারীরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ফলে কখন কি হয় তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে সবসময় আশঙ্কায় থাকতে হয়। তিনি ভাইবোনছড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।


তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও এখনো আমাদের ওপর শারিরীক, মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে। তিনি দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে চাইলে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করে তাদেরকে ন্যায্য অধিকার প্রদান ও বৈষম্য দূর করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


ইউপি সদস্য প্রতিভা চাকমা বলেন, পৃথিবীতে অর্ধেক নারী আর অর্ধেক পুরুষ। নারী ছাড়া যেমন পুরুষ  জীবন যাত্রা উন্নয়ন সম্ভব নয়, তেমনি পুরুষ ছাড়া নারীদেরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।


তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীদের ওপর প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কোন সরকার বা প্রশাসন এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি দেয়নি। ধর্ষকদের যথাযথ বিচার না হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা বার বার ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।  


তিনি ভাইবোনছড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষকদের উপযুক্ত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।


হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মেনাকি চাকমা বলেন, আপনারা নিশ্চয় জানেন যে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় ৬ জন সেটলার বাঙালি এক ত্রিপুরা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে সে ঘটনা। তাদেরকে এখনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। কল্পনা চাকমা অপহরণ থেকে শুরু করে এ যাবত যত পাহাড়ি নারী ধর্ষণ-নিপীড়নের শিকার হয়েছে এ রাষ্ট্র তার কোন ঘটনারই বিচার করেনি। উল্টো শাসকগোষ্ঠি পাহাড়িদেরকে বাঙারি বানাতে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক নারীর জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, আমাদের পাহাড়ি নারীদেরকে প্রতিনিয়ত নিপীড়ন-নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। আমাদেরকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা এমন নিপীড়ক দেশ চাই না, আমরা প্রকৃত স্বাধীন দেশ চাই, যেখানে আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবো।


তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান পরিস্থিতিতে নারীদেরকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।


সভাপতির বক্তব্যে মিতালী চাকমা বলেন, ভাইবোনছড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষকদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকী ২ জনকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। আর গ্রেফতারকৃতদেরও এখনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সাজা না হওয়ার কারণে কল্পনা চাকমার মতো অনেক নারীর জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর মতো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ি নারী ধর্ষণ-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।


তিনি ভাইবোনছড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষকদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দ্রুত সাজা কার্যকরের জোর দাবি জানান।


সম্পর্কিত খবর

;