ঝিনাইগাতী আ'লীগের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নাইমকে বহিষ্কার দাবি

প্রকাশ : 25 May 2022
No Image

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা আ'লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২২ কে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৫ মে বুধবার শেরপুর প্রেসক্লাবে ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৩ মে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সভাপতি এসএমএ ওয়ারেজ নাইম সংবাদ সম্মেলনে তাকে জড়িয়ে পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে মিথ্যা প্রচারণা এবং তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আওয়ামী লীগের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবী করেন। এরই প্রতিবাদে ২৫ মে বুধবার এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা। এতে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিপরীত মতাদর্শের লোকদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এসএমএ ওয়ারেজ নাইম সাবেক কমিটির ৭১ জনের মধ্য থেকে ৫৪ জনকে বাদ দিয়ে উপজেলা কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির অন্তত ১৫ জনের নাম পদবী উল্লেখ করে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন জানান তারা সকলেই বিএনপির বিভিন্ন কমিটির নেতা ছিলেন। আরও জানানো হয় যে, ২০১৪ সালে সর্বশেষ সম্মেলনকে সামনে রেখে সকল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুবলীগ ছাত্রলীগের ৮১ জন নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে রেখে একতরফাভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করেন এসএমএ ওয়ারেজ নাইম। এতে আরও জানানো হয় জনাব নাইম সংবাদ সম্মেলনে ১৯৯০ পূর্ববর্তী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন বলে যে দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের কোন সদস্য ছিলেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম মোস্তফা জানান, “তিনি প্রায় দুই যুগের অধিক সময় দলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালের ১৪-ই জুন নাইম আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি কোথায় কোন দলের সাথে যুক্ত ছিলেন তা সংবাদ সম্মেলনে নাইম বলেননি।” নাইম এর ফ্রিডম পার্টি সংস্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের হাতে কোন লিখিত প্রমাণ নেই, আপনারা শহরে অনুসন্ধান করলেই জানতে পারবেন। ছাত্রলীগ নেতা ভোলা হত্যায় এসএমএ ওয়ারেজ নাইম এর সংস্লিষ্টতা বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, নাইম ওই মামলায় এফআইআরে ২৪ নং ও চার্জশিটে ২০ নং আসামী ছিলেন। আরো জানানো হয় যে, নাইম এর পৈত্রিক বাড়িতে আলবদরের বড় ক্যাম্প ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌরীপুর ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবেদার তমির উদ্দিন বলেন ওই ক্যাম্প থেকে তাদের উপর নজরদারির জন্য তাদের কয়েকটি অপারেশন বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি আরো জানান নাইম এর পরিবারের সকলেই মুসলিম লীগ সমর্থক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধীতা করেছেন। এছাড়াও নাইম এর বিরুদ্ধে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়ে ব্যার্থ হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার অভিযোগ করা হয়। আরো অভিযোগ করা হয় তিনি ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্য করে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এছাড়াও গৌরীপুর ইউনিয়নে তার অনুগত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালান। ফলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাত্র ২৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তারা এসএমএ ওয়ারেজ নাইমকে আ'লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার দাবি করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে আ'লীগের সাবেক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আ'লীগ নেতা মোফাজ্জেল হোসেন চাঁন, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন মোল্লা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক দুলাল, সদস্য আব্দুল কাদির, মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা, সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কালাম আজাদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, ঝিনাইগাতী প্রেসক্লাবের সভাপতি নমশের আলমসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

;