সিলেটে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই চলছে অটোরিকশা!

প্রকাশ : 04 Oct 2025
সিলেটে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই চলছে অটোরিকশা!


সৈয়দ রাসেল আহমদ: সিলেট নগরীতে এক দিকে চলছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান অন্যদিকে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনদুপুরেই নগরীতে চলছে অটোরিকশা। 


বুধবার (৩ অক্টোবর) নগরীর উপশহর, শিবগঞ্জ,মিরা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে চোখে পড়ে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। তাদেরকে প্রকাশ্যই চলাচল করতে দেখা যায়। 


তবে প্রশাসনের দাবি অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তারা।


এদিকে নগরীতে অটোরিকশা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ অটোরিকশা বন্ধের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ বলছেন তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে চলাচলের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।


তবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বন্ধ হওয়ায় সিএনজি চালক ও প্যাডেল চালিত রিকশা চালকরা বেজায় খুশি। খুশিতে আত্মহারা হয়ে তারা শুরু করেছেন ভাড়া নৈরাজ্য। ২০ টাকা রিকশা ভাড়া এখন কেউ কেউ ৩০ থেকে ৫০ টাকাও নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্যাডেল রিকশা চালকদের বিরুদ্ধে। 


এদিকে পিছিয়ে নেই সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকেরা। তারাও যাত্রীদের পকেট কাটছেন ইচ্ছেমতো। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান যেন তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।


এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বলেন ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে পুলিশ কাজ করছে, খুব দ্রুত নগরীতে ভাড়া তালিকা প্রকাশ করে টাঙ্গানো হবে বিভিন্ন পয়েন্টে। ভাড়া নৈরাজ্য সিলেটে আর চলবে না।


অব্যাহত অভিযান, শহরকে হকার ও যানযট মুক্ত করতে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা এখন সিলেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।


এই দুই কর্মকর্তার হাত ধরে বদলে যাচ্ছে সিলেট এমনটাই দাবি সুশীল সমাজের।


জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম সিলেটে আসছেন, জেনে বেশ সাড়া ফেলেছিল গণমাধ্যমে। বিশেষ করে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় তিনি অপরাধের বিরুদ্ধে যে কঠোর ভূমিকা পালন করেছিলেন তার সেই সুনামের কারণেই নড়েচড়ে বসেছিলেন সিলেটের মানুষ। 


তাকে নিয়ে সিলেটের মানুষ যে প্রত্যাশা করেছিলো তা তিনি বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।


এদিকে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেলেও ধারাবাহিক অভিযানে আতংকে রয়েছেন বলে জানান চালকেরা। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অভিযানে মামলা ও রিকশা হারানোর ভয় নিয়েও শহরের অলিগলিতে চলাচল করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।


ধারণা করা হচ্ছে সিলেট শহরে প্রায় ৩০ হাজার অটোরিকশা রয়েছে, শহরের অনেক মানুষ আছেন যাদের একেকজনের ১০-১৫ টি অটোরিকশা রয়েছে। তারা ৩৫০ টাকা চুক্তিতে প্রতিদিনের জন্য এসব অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে থাকেন।


আবার কেউ কেউ কিস্তিতে টাকা তুলে নিজেই রিকশার মালিক হয়েছেন। 


এসব অটোরিকশা চালকদের মধ্যে আবার বড় একটা অংশ ১৮ বছর এর নিচের কিশোররা। 


অটোরিকশার দৌরাত্ম্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য নগরীর উপশহর এলাকায় আমাদের ক্যামেরা দেখে একে একে অটোচালকরা জড়ো হতে থাকেন, বলতে থাকেন তাদের দুখঃ দুর্দশার কথা।


নগরীর সালমা বেগম নামের এক রিকশা চালকের মায়ের আহাজারি, তিনি কিস্তি তুলে একটি রিকশা কিনেছিলেন তার ছেলের জন্য, সেই রিকশা চলমান অভিযানে আটক করা হয়েছে। এখন তার সংসার চলছে না এমনটাই দাবি তার।


অন্য দিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন অটোরিকশা বন্ধ না করে তাদের সিলেট শহরের ভিতরে থাকা গলিগুলোতে চালানোর সুযোগ দেয়া যেতে পারে, পাশাপাশি তাদের লাইসেন্স ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক। ১৮ বছরের আগে যাতে অটোরিকশা চালক হতে না পারে সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে বলছেন সাধারণ মানুষ। 


তবে শহরের বড় একটা অংশের মানুষ অটোরিকশার বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি শহর থেকে অটোরিকশা বন্ধ করে শহর যানযট মুক্ত করা হোক।

সম্পর্কিত খবর

;