নাটোরে বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: ৬জন গুলিবিদ্ধ

প্রকাশ : 09 Sep 2024
নাটোরে বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে  দুই গ্রুপের সংঘর্ষ:  ৬জন গুলিবিদ্ধ

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বন্দের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাতজন আহত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের ১৪ টি দোকান ও ৯ টি বাড়ি ভাংচুর করার ঘটনা ঘটেছে।


সংঘর্ষে ৬ জন রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে  নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশি। 


তবে সংঘর্ষে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি বলে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) মো. শরীফ আল রাজীব।


রোববার(৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রাম এলাকায় এঘটনা ঘটে। নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপি একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।


রাবার বুলেটে আহতরা হলেন— শহিদুল, রবিউল ইসলাম, মামুন হোসেন (২১), সাগর আলী (২০),মশিউর রহমান (২৮), জাহিদ আলী (১৮)।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহামনের মধ্যে নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছিলো। কমিটি গঠনের পরে দিন ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বাতিলের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে হাবিবুর রহমানের সমর্থকরা। এর জেরেই গতকাল সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এতে দুই পক্ষের সহ মোট সাতজন আহত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ১৪ দোকান ও ৯ বাড়ি ভাংচুর করা হয়।


চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু বলেন, রোববার সন্ধ্যায় শতাধিক লোকজন নিয়ে এসে দাসগ্রাম বাজারে ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এসময় হাবিবুর রহমানের ভাই সাইদুল ইসলাম ফাকা গুলি ছুড়তে থাকে। লোকজন পালিয়ে গেলে দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ের ১৪টি দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে আমার সাইদুল ইসলাম, সালেক আলী, ইউনুস আলী, আনিসুর রহমান, আব্দুল হান্নান, নুর নবী, খায়রুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জহুরুল মালিথার বাড়ি ঘর ভাংচুর করে লুটপাল করা হয়।

এদিকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান   দাবি করেন, রবিউল ইসলাম টিপুর লোকজন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার দোকান ঘর ভাংচুর ও যুবদলের কার্যালয় ভাংচুর লুটপাট করে। পরবর্তীতে তার লোকজনের এগুলোর প্রতিরোধ করে। 


এবিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ৫ তারিখের পর থেকে আমাদের নেতা কর্মীরা কেউ এলাকায় নাই। তাদের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের দায় আমাদের ওপর অন্যায় ভাবে চাপানো হচ্ছে।


জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু  বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য দলীয় ভাবে উপজেলা বিএনপিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেই দোষী হোক তার বিরুদ্ধে দলীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা।


এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশি  বলেন, গতকাল রাতে শহিদুল, রবিউল ইসলাম, মামুন হোসেন, সাগর আলী ,মশিউর রহমান, জাহিদ আলী নামে ৬ জন ব্যক্তি রাবার বুলেটে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, এমনটা ইনজুরি নোটে গতকাল রাতে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন। 


এবিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) মো. শরীফ আল রাজীব  বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রবিউল ইসলাম টিপু ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এ জের ধরে গতকাল দু'গ্রুপের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে সেখানে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এমন কোন খবর এখন পর্যন্ত পাইনি। 

তিনি বলেন, কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পর্কিত খবর

;