বিরোধী মত দমনের জন্য অপারেশন 'ডেভিল হান্ট' : আওয়ামীলীগ

প্রকাশ : 12 Feb 2025
বিরোধী মত দমনের জন্য অপারেশন 'ডেভিল হান্ট' : আওয়ামীলীগ

ডেস্ক রিপোর্ট: সন্ত্রাস-নৈরাজ্য দমনে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানে দেশজুড়ে চলমান ‘ডেভিল হান্ট' গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ।


বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এতথ্য জানা গেছে।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে দখলদার খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার নিজেদের ক্ষমতা দখলকে পাকাপোক্ত করতে বিরোধী মত দমনের জন্য অপারেশন 'ডেভিল হান্ট' পরিচালনা করছে। যৌথবাহিনীর এই অভিযানের মাধ্যমে গত দুই দিনে দেড় সহস্রাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অবৈধ দখলদার সরকার জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য ভয়ের রাজত্ব কায়েম করছে। যেন জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হতে না পারে। গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের জনগণের কণ্ঠরোধ করতে অবৈধ এই সরকার পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে। শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে শত শত নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে দুগ্ধপোষ্য নিষ্পাপ শিশুকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে, ছেলেকে না পেয়ে বৃদ্ধা মা ও বৃদ্ধ বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আকতার শিকদারকে যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করে নির্মম অত্যাচারের পর হাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ যেন পিশাচদের নিষ্কণ্টক  রাজ্য প্রতিষ্ঠায় রক্তপিপাসুদের খুশি করার লক্ষ্যে মানুষ শিকারের মহোৎসব। সুতরাং 'ডেভিল হান্ট' নাম না দিয়ে এটার নাম দেওয়া উচিত 'ইনোসেন্ট পিপুল আর হান্টেড বাই দ্য ডেভিল'।

সম্প্রতি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে মবকে উস্কে দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এবং বাঙালির সুমহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এবং সমগ্র জাতির অক্ষয় অনুভূতির প্রতীক ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনকে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর তথাকথিত সমন্বয়কদের নেতৃত্বে মবসন্ত্রাসীরা লাগাতারভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। তবে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক-এর বাড়িতে এই মবসন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙাচুর, ডাকাতি ও দস্যুতা এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে রুখে দেয়। এ সকল ডাকাত ও দস্যুদের প্রতিহত করে। জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন এই সরকার গণপ্রতিরোধের অবিনাশী সম্মিলিত শক্তিকে ভয় পেয়ে নিজেদের উস্কানিতে সৃষ্ট ডাকাত ও দস্যুবাহিনীকে প্রতিরক্ষা দিতে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে 'ডেভিল হান্ট' নামে অভিযানের ঘোষণা দেয়। যেহেতু গাজীপুরের গণপ্রতিরোধের পর এই অভিযান সেহেতু দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তারের পাশাপাশি শুধু গাজীপুরেই প্রায় তিন শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। তদুপরি সরকারের মদদপুষ্ট এ সকল মবসন্ত্রাসীদের ডাকাতি-দস্যুতার কারণে সারা দেশে জনগণ সোচ্চার রয়েছে এবং নিজেদের মতো করে গণপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বয়ে চলছে। এটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এই অবৈধ সরকারের এক উপদেষ্টা মবকে ডেভিল হিসেবে গণ্য করার একটা রাজনৈতিক বয়ান তুলে ধরেছে। তার এই বয়ান যে শুধু কথার কথা সেটা সরকারের পদক্ষেপেই বুঝা যায়। কেননা এই মবসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত তারা প্রত্যেকেই সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত। অথচ এসব ডেভিলদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। কারণ অবৈধ  সরকারই এই অশুভ ডেভিলদের লালনপালন কর্তা। তার পরও আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে সাধুবাদ জানাব এই কারণে যে, তারা অমানবিক দর্শনধারী এই ডেমনিক ডেভিলদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। এরই সাথে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রক্তপিপাসু অবৈধ ইউনূস সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী মশাল মিছিল এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বাত্মক সকাল-সন্ধ্যা কঠোর হরতাল সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে এই অশুভ শক্তিকে আমরা পরাজিত করতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ। 


 

সম্পর্কিত খবর

;