ডেস্ক রিপোর্ট: বৈষম্য নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ-এর উদ্যোগে আজ ১৮ অক্টোবর ২০২৪, শুক্রবার, সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা ও আমাদের প্রত্যাশা’-শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রবন্ধ উত্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল-আমীন। সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম।
সেমিনারে আলোচনা ও বক্তব্য রাখেন- ফকিরচাদ কলে (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্গত) ভারতের সংগীত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক উজ্জল বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর খোরশেদ আলম ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম এম আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও মঞ্জুরি কমিশন বিভাগের সদস্য ড. তানজিমউদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (অব.) ও বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় (বাকবিশিস)-এর সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ড. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজিত পাল, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন, প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান আনসারী, বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েট প্রাথমিক শিক্ষক সোসাইটির সভাপতি মো. আব্দুল খালেক, নন ক্যাডার প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ প্রমুখ।
সেমিনারে ফকিরচাদ কলে (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্গত) ভারতের সংগীত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক উজ্জল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের অত্যন্ত নিম্নহারে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। শিক্ষকদের ক্ষুধার্থ রেখে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান সম্ভব নয়। আমি জেনেছি, আমাদের ভারতের তুলনায় শিক্ষকদের অন্যান্য সুবিধাদিও অতন্ত নগন্য। গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে অবশ্যই রাষ্ট্রকে শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের আনুষাঙ্গিক সুবিধাদি বৃদ্ধি করতে হবে।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (অব.) ও বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় (বাকবিশিস)-এর সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ড. আজিজুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের কোনো শ্রেণিতে বিভক্ত করা যাবে না। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল শ্রেণির শিক্ষকই মানুষ গড়ার কারিগর। তার মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষকরা কাঁদামাটিতে ঘষামাজা করে একটি প্রকৃত রূপ প্রদান করেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবির মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ০৯ম গ্রেড শতভাগ সমর্থন করি। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে মানসম্মত শিক্ষক নিয়ো প্রদান অতীব জরুরি। সেক্ষেত্রে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে যেন প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাজীবন থেকেই আলাদা করে শিক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রগতিতে বার্ষিক বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং প্রাথমিক স্তরে সরকারি স্কুলগুলোতে একই ধরনের পাঠ্যক্রম চালু করতে হবে।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও মঞ্জুরি কমিশন বিভাগের সদস্য ড. তানজিমউদ্দিন খান বলেন, শিক্ষা সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে, যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষা স্তরের মূল স্তম্ভ। শিক্ষকদের পেশা নিয়ে অন্য কারোর সাথে তুলনা করা যাবে না।
সেমিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর খোরশেদ আলম ভূইয়া বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রস্তাবনা অত্যন্ত যৌক্তিক। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় যেভাবে নানা ধরনের বৈষম্য রয়েছে সেই বৈষম্য চলমান রেখে একটি অত্যাধুনিক মানসম্মত জাতি গঠন সম্ভব হবে না। এছাড়াও সামাজিক বৈষম্য নিরসনে শিক্ষাকে একমুখী করতে হবে। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদান না করলে একটি শিক্ষিত পদ্খ জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে না।
সেমিনারে অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রত্যেকেই সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড শতভাগ পদোন্নতি এবং প্রধান শিক্ষকদের ০৯ম গ্রেড দাবি করেন। এছাড়াও শিক্ষক সুরক্ষা আইন, শিক্ষকদের পদোন্নতি উচ্চতর গ্রেড প্রদানে নানা জটিলতা এবং শিক্ষকদের নিম্নমানের টিফিন ভাতার বিষয়টিও যৌক্তিক। সহকারী শিক্ষকরা হচ্ছেন শ্রেণিকক্ষের প্রাণ। তাদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী রেখে মানসম্মত শিক্ষা আশা করা অর্থহীন। একজন শিক্ষক সহকারী শিক্ষক পদে যোদনা করে সহকারী হিসেবেই অবসরে যাচ্ছেন। এটা খুবই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। সহকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ০৯ম গ্রেড প্রদান করে তাদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম। এর মধ ...
স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে ঘিরে ঢাকাসহ সারাদেশে এখন পর্যন্ত নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চ ...
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গত ৩০ এপ্রিল অন ...
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ওপর বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্তত আগামী ...
সব মন্তব্য
No Comments