অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মানববন্ধন

প্রকাশ : 26 Jan 2025
অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মোঃ মঈনুদ্দিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন, কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। রবিবার সকাল ১১টার দিকে এই কর্মসূচি পালন করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চীফ ইন্সট্রাক্টর মোঃ বাছিরুল আলম, ইন্সট্রাক্টর মোঃ সাইদুল ইসলাম, মোছাম্মত হোসনা বেগম, ট্রেইনার ফয়সাল আহমেদ সৈকত, মোঃ জিয়াউর রহমান ও শিক্ষার্থী সৈকত ভুইয়া জয় প্রমূখ। 

বক্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মোঃ মঈনুদ্দিন পটুয়াখালী থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগে বদলি হয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলি হয়ে এসেছেন। এরপর থেকে তিনি ÿমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে পরিচালনা করার চেষ্টা করছেন। তার অপকর্ম এবং অনিয়ম অনৈতিক কার্যক্রমে অনীহা প্রকাশ করায় ৮জন শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তার অপকর্মে সায় না দেওয়ায় চারজন শিক্ষককে শোকজ করেছেন তিনি। ফলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়ছে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ মো: মঈনুদ্দিনের অপসারণ দাবি করেছেন। তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা না হলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে জানান আন্দোলন কারীরা। 

ডাটা এন্ট্রি কাজের সাথে জড়িত থাকা আবু নাঈম চৌধুরী বলেন, বিগত ৭ বছর ধরে আমি ডাটা এন্ট্রির কাজ করে আসছিলাম। কিন্তু নতুন প্রিন্সিপাল মোঃ মঈনুদ্দিন আসার পর আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ফরম বিতরণের কাজে দেয়। এতে আমি অনীহা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বাথরুম পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দেন। 

এছাড়াও অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের প্রশিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ এই কেন্দ্রে আসার পর থেকেই আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। তিনি ঢাকা থেকে বিভিন্ন মালামাল কত দামে কোথায় কিনে থাকেন তা আমার জানা নেই। আমি শুধু তার কথামত স্বাক্ষর দিয়েছি।   

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোঃ মঈনুদ্দিনের মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। 

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার, মোবাইল সার্ভিসিং, ড্রাইভিংসহ ১৪টি প্রশিক্ষণ বিভাগে ৬শ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। 


সম্পর্কিত খবর

;