অর্থ নাকি স্বার্থ (?), তবে রেজিনা গুম কেন?

প্রকাশ : 10 Jan 2025
অর্থ নাকি স্বার্থ (?), তবে রেজিনা গুম কেন?

মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস: "অর্থ নাকি স্বার্থ (?)" কিসের কারণে নিজের মেয়ে কিংবা বোন কিংবা শালী কিংবা খালাকে লুকিয়ে নাকি গুম নাকি খুন করেছেন-এমন একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানায়। অভিযোগকারীর অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, গত ০২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে যুগবার্তা ডট কম এর  রংপুর বিভাগীয় অফিসের সংবাদ দাতা এবং দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার রাণীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ মহশীন আলী, তার স্ত্রী ও তার মামাসহ তার স্ত্রীর পৈতৃক নিবাস রুহিয়া থানার উত্তর চাপাতি পাইকপাড়া গ্রামে সন্ধ্যার দিকে মেহমান যায়। ঐ দিন রাতের খাবার খেয়ে তার মামা বাড়ি চলে গেলেও মহশীন ও তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে মেহমান থেকে যায়। পরদিন শুক্রবার বিকালে মহশীন তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি আসতে চাইলে তার স্ত্রী আরও কয়েকদিন মেহমান খাবে বলে মহশীনের নিকট জানাই। স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করার জন্য মহশীন তার স্ত্রীকে তার শ্বশুর বাড়িতে রেখে বিকালে বাড়ি চলে আসেন। পরের দিন অর্থাৎ ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ সকালে মহশীন তার স্ত্রীর সাথে কথা বলার জন্য তার শাশুড়ির নাম্বারে বেশ কয়েকবার কল দিলে তার শাশুড়ি উলট-পালট কথা বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে ওই দিনই দুপুরে তার স্ত্রীর মেজো দুলাভাই তাকে(মহশীনকে) কল দিয়ে জানাই যে, তার স্ত্রীকে বাড়িতে সকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় কল দিয়ে তিনি উক্ত কথার সত্যতা নিশ্চিত করেন। 


মহশীন অভিযোগ করে বলেন, সর্বশেষ তার স্ত্রীর সাথে গত ০৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের সন্ধ্যা ৭:৫২ ঘটিকায় বাড়ি পৌঁছানো ও ভালো-মন্দ এবং ঘুমানোর কথা হয়। এরপর আর কোন কথা হয় নাই। তার স্ত্রীকে খুঁজে না পাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার স্ত্রীর মা-ভাই-বোন-দুলাভাই সহ অন্যান্য আত্মীয়দের থানায় একটি জিডি করার কথা বললেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। এমনকি তাদেরকে এ বিষয়ে কল না দিতে বলে এবং তারা বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান।


তিনি হতাশা প্রকাশ করে আরো জানান, তিনি গত কয়েকদিনে তার স্ত্রীকে গোপনে প্রকাশ্যে খুঁজে বেড়িয়েছেন। কোথাও কোনো খোঁজ পাননি এক মিনিটের জন্য হলেও হলেও মোবাইলে কথা বলতে পারেনি। এমনকি তার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনগণেরও কোনো সহযোগিতাও পাননি। সে কারণে তিনি মনে করেন তার স্ত্রী তার শ্বশুরবাড়িতে মেহমান থাকার সময় তার স্ত্রীর সাথে বেশ কিছু নগদ টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। তার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন উক্ত টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ কিংবা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য সাধিত পরিবার নিমিত্তে তার স্ত্রীকে তারা লুকিয়ে রেখেছেন কিংবা গুম করেছেন বলে প্রকাশ করেন। যেহেতু প্রায় আট দিন হয়ে গেল সেই হিসেবে তারা অর্থাৎ অভিযোগের বিবাদীগণ তার স্ত্রীকে খুন করেও থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


 মহশীন তার স্ত্রীকে খোঁজাখুঁজি করার কারণে এজাহার দাখিলে কিছুটা সময় বিলম্বিত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলেন, তার স্ত্রীকে বিবাদীগণ যদি লুকিয়ে রেখেছেন তাহলে তার স্ত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করা না হলে বিবাদীগণ যে কোন সময় তার স্ত্রীর যেকোনো রকমের প্রতি সাধন করিতে পারে। এমনকি তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তালাক প্রদানেও বাধ্য করতে পারে। যদিও তিনি উল্লেখ করেন, তাদের বিবাহের কাবিননামায় (১৮) নং কলামে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তালাক প্রদানের ক্ষমতা তার স্ত্রীকে দেওয়া হয় নাই।


এমতাবস্থায় তিনি তার এজাহারটি রুহিয়া থানায় এন্ট্রি করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট মর্জি প্রকাশ করেন।


এই অভিযোগের ব্যাপারে রহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


অভিযোগের বিবরণ মোতাবেক বিবাদীগণ হলেন, তার স্ত্রীর মাতা-লুৎফা বেওয়া, ভাই- রুবেল, রুহিয়া থানার ঘনিবিষ্ণুপুর গ্রামের বোন-আলেয়া ও দুলাভাই-একরামুল এবং পীরগঞ্জ ঘোড়াধাপ গ্রামের বোন-মর্জিনা, দুলাভাই-শফিকুল ও ভাগিনা রবিউল।


মহশীন এই রিপোর্টের মাধ্যমে আকুল আবেদন করে তার স্ত্রীর সন্ধান চেয়ে বলেন, কেউ যদি তার স্ত্রীর সঠিক সন্ধান দিতে পারে তাহলে তাকে পুরস্কৃত করবেন। কেবলমাত্র সেই জন্য তিনি তার ০১৭৮৫৭১০০২৫ নম্বরে কল দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।


সম্পর্কিত খবর

;