নাটোরে ৫০ কেজি ধান দিয়ে তৈরি হলো দুর্গা প্রতিমা

প্রকাশ : 08 Oct 2024
নাটোরে ৫০ কেজি ধান দিয়ে তৈরি হলো দুর্গা প্রতিমা

নাটোর জেলা প্রতিনিধি: শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে ধান দিয়ে। পূজা উদযাপনে দেবী দুর্গার প্রতি ভক্তি আকর্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়তেই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরিসহ নানা উদ্যোগ নেন আয়োজকরা। 

নাটোরে এবার সোনালি ধান বসিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করল এক কারিগর। এতে দুর্গাসহ ৮টি প্রতিমা তৈরি করতে মোট ধান লেগেছে ৫০ কেজি।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত বছর নাটোর জেলায় মোট ৩৯১টি দুর্গাপূজা হলেও এবার পূজা হবে ৩৫১টি।


প্রতিমা শিল্পী( কারিগর) বিশ্বজিৎ পাল বলেন, এই মণ্ডপে দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুর, মহিষাসুর প্রতিমা তৈরির জন্য প্রথমে কাঠ, বাঁশ, পাট ও বিচালির ফ্রেম বা কাঠামো তৈরি করা হয়। পরে তাতে মাটি দিয়ে প্রতিমার আকৃতি আনা হয়। সেগুলো শুকিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মাটি নরম থাকতে প্রতিমা জুড়ে ধান বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধান এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে দেখলে মনে হবে প্রতিমাগুলো সোনায় মোড়ানো। 


তার দাবি, এক মাসের বেশি সময় ধরে চারজনের চেষ্টার ফসল হিসেবে ব্যতিক্রমী দুর্গা প্রতিমাসহ অন্য প্রতিমাগুলো তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য ধান লেগেছে ৫০ কেজির মতো। এরপর রং-তুলির আঁচরে চোখ-মুখসহ  প্রতিমার আদি রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


বিশ্বজিৎ পাল আরও বলেন, প্রতিমাটি দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছেন, এবং আমার প্রশংসা করছেন।‌ সত্যিই আমার অনেক ভালো লাগছে।


প্রতিমা দেখতে এসে পরিতোষ রায় বলেন, জীবনে অনেক জায়গার প্রতিমা দেখেছি, কিন্তু এতো সুন্দর প্রতিমা এই প্রথম মনে হয় দেখলাম। 


রবি সুতম সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ রায় জানান , রবি সুতম সংঘ প্রতিবছরই নিত্যনতুন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরে আমরা ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা নিই। ধান দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করাটা খুব সহজ কাজ নয়। আমরা প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি এই প্রতিমা তৈরি করে দিতে সম্মতি দেন। প্রতিমাশিল্পী একটি করে ধান সুনিপুণভাবে থরে থরে সাজিয়ে প্রতিমাকে সুন্দর করে তুলেছেন।


পূজা উদযাপন বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাছুদুর রহমান  বলেন, একযোগে নাটোরের ৩৫০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবটি উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য ও হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে পূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে  জেলা পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক মিটিং সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখানে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ হাতে নিয়েছি।


উল্লেখ্য, আগামী মঙ্গলবার দেবী দুর্গার বোধন। বুধবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৩ অক্টোবর রবিবার বিজয় দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজা।#

সম্পর্কিত খবর

;