ব্রাহ্মণবাড়িয়া: উপদেষ্টা আসবেন বলে চলছে সড়ক মেরামত

প্রকাশ : 07 Oct 2025
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: উপদেষ্টা আসবেন বলে চলছে সড়ক মেরামত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া  অংশের অসহনীয় যানজট নিরসনে হঠাৎ নড়েচড়ে বসেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট হওয়ায় আজ বুধবার সড়ক পরিবহণ উপদেষ্টা এলাকা পরিদর্শনে আসছেন। এই খবরে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় ভাঙন অংশে তিন স্তরে চলছে ইট বিছানোর কাজ। কিন্তু সড়কের মাঝখানে ইট ও বালুর স্তুপ ফেলে রাখায় উলটো যানজট আরও বেড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জনদুর্ভোগ।

সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সফর কেন্দ্র করে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় সওজ কার্যালয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপদেষ্টাকে দেখানোর জন্যই তড়িঘড়ি করে এই কাজ শুরু হয়েছে। তাদের শঙ্কা, পরিদর্শন শেষে হয়তো আবার এসব ইট তুলে ফেলা হবে। এটা হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে বলেও মনে করেন তারা। তবে সওজ বলছে, এটি কোনো অস্থায়ী সংস্কার নয়, স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসাবেই কাজটি করা হচ্ছে।

সওজের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়সহ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে যানজট চলছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে গত শনিবার নির্দেশ আসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পরে শনিবার বিকাল থেকেই দ্রæত মেরামত কাজ শুরু হয়। সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বর এলাকায় তিন স্তরে ইট বিছানো হচ্ছে। এই অংশে ১২ মিটার প্রস্থ ও ১৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে জায়গায় এবং গোলচত্বর থেকে সিলেটমুখী সরাইল কুট্টাপাড়া মাঠ পর্যন্ত প্রায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যে ইট-বালুর তিন স্তরের সমতল কাজ চলছে।

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এখানে মোট চার লাখ ইট বিছানো হবে। এসব ইট আনা হচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় ইটভাটা থেকে। শনিবার বিকাল থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত কাজ চলে। সওজের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বুধবার উপদেষ্টা ফাওজুল কবির ট্রেনে ভৈরবে এসে সড়কপথে সরাইল বিশ্বরোডে যাবেন। তিনি সেখানে গোলচত্বরের ভাঙন, যানজট এলাকা ও মেরামতকাজ পরিদর্শন করবেন।

আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় আট বছর আগে। পাঁচ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। কিন্তু কাজের গতি শুরু থেকেই মন্থর। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশীয় অর্থ ও ভারতীয় ঋণে চলমান এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে যান। প্রায় তিন মাস পর তারা ফিরে এসে কাজ শুরু করলেও ততদিনে অনেক নির্মাণসামগ্রী নষ্ট বা খোয়া যায়।

সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জনদুর্ভোগ লাঘবে আমরা তিন ¯Íরের ইট বিছানোর কাজ করছি। প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি কোনো অস্থায়ী সংস্কার নয়, বড় ধরনের কাজ। আমরা নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলাম। তাই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই আমরা হাতে নিয়েছি।

সম্পর্কিত খবর

;