ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতিনিয়তই হচ্ছে নদীদূষণ। এজন্য পানিতে কমছে ইলিশের খাদ্য। ফলে দেশের জাতীয় এ মাছের পেটে যাচ্ছে বালি ও ধ্বংসাবশেষ। এর পরিমাণ কম নয়, ৩৬ শতাংশ। খাদ্যাভ্যাসে এমন পরিবর্তনে ইলিশের স্বাদ ও গন্ধ আগের মতো থাকছে না।
চাঁদপুর নদী কেন্দ্রে ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় হওয়া গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইলিশ মাছের খাদ্য তালিকায় শৈবালের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৪২ শতাংশ। এরপরই বালি ও ধ্বংসাবশেষের অবস্থান, পরিমাণ ৩৬ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য তালিকায় ডায়াটম ১৫, রটিফার ৩, ক্রাস্টাসিয়ান ২, প্রোটোজোয়া ১ এবং অন্যান্য উপাদান ১ শতাংশ পাওয়া গেছে। ইলিশ মাছের খাদ্য তালিকায় মোট ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদ-কণা এবং ১২ প্রজাতির প্রাণী-কণা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়ছে নদীদূষণ। বেপরোয়া বালি উত্তোলন ছাড়াও নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন অথবা পানিতে তৈলাক্ত ও বিষাক্ত সামগ্রী ছাড়ার কারণে ইলিশের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে ইলিশের গঠন ও স্বাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
বিশ্বে ইলিশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। সরকারি হিসাবে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টনে উন্নীত হয়। উৎপাদন বাড়লেও অপরিপক্ব ইলিশ গবেষকদের ভাবাচ্ছে।
জানা গেছে, এক বছর বয়সী পুরুষ ও স্ত্রী ইলিশ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৩ সেন্টিমিটার সাইজ হলে পরিপক্ব হিসেবে গণ্য হয়। মূলত তখনই প্রজনন উপযোগী হয় ইলিশ।
গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের নদ-নদীগুলোতে অপরিপক্ব প্রায় ২৭ শতাংশ ইলিশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ইলিশের পেটেও ডিম হচ্ছে। এটি অদূর ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি।
চাঁদপুর নদী কেন্দ্রে ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক মো. আবুল বাশার বলেন, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্য ইলিশের স্বাদে হেরফের হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে অপরিপক্ব ইলিশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নদীতে বিভিন্ন কারণে ইলিশের খাদ্যকণা কমে যাচ্ছে। ফলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে। এজন্য মাছের স্বাদে হেরফের হচ্ছে। ইলিশের পেটে প্রায় ৩৬ শতাংশ বালি ও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এতে বুঝা যায়, পানিতে বালি ও ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ বেশি। পানিতে এসব আছে বলেই মাছের পেটে তা চলে যাচ্ছে, তা হজমও হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করে নদী কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, বেপরোয়া বালি উত্তোলনসহ নানা কারণে মেঘনা নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এসব কাজে প্রভাবশালী মহল জড়িত।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) খ. মাহবুবুল হক বলেন, আমরা এখনো গবেষণার প্রতিবেদনটি পাইনি। পাওয়ার পর আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাজ করবো।
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের কারণে মাছ, শাকসবজিসহ সবকিছুতে এর প্রভাব পড়ছে। এটার জন্য পরিবেশ আইন আছে। এ বিষয়ে সবারই সচেতন হতে হবে।-আমাদের সময়.কম
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, স ...
রাজশাহী অফিস: সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ...
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৩ হাজার ৪০০ শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা জাতীয় প্ল্যাটফর্ম মুন এলার্ট (MU ...
স্টাফ রিপোর্টার: ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ ...
সব মন্তব্য
No Comments