বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালা খুলেছে

প্রকাশ : 14 May 2026
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালা খুলেছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চার দিনের কমপ্লিট শাটডাউনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে বেলা ১১টার দিকে ভিসির অফিস আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ দপ্তরের তালা খুলে অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরেছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা।


এর আগে শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। গত ১১ মে থেকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। ওই সময় থেকে প্রশাসনিক ভবন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।


আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। কিন্তু সভায় অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।


শাটডাউন চলাকালে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষকরা উপাচার্যকে প্রশাসনিকভাবে অসহযোগিতার আহ্বান জানান। রেজিস্ট্রার ও অর্থ দপ্তরের পরিচালককে কক্ষ ত্যাগে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝোলানো হয়। কয়েকজন কর্মচারী জানান, শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই তারা তালা ঝুলিয়েছেন।


ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ধীমান কুমার রায় বলেন, “আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁকে প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত প্রক্টরসহ তিনজন পদত্যাগ করেছেন।”


চার দিন অচল থাকার পর ভিসির নির্দেশনায় আজ সকাল থেকে তালা খুলে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দপ্তরে ফিরেছেন। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া ও উপাচার্যের অবস্থান নিয়ে সংকট পুরোপুরি কেটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


সম্পর্কিত খবর

;