খরা-বন্যার সঙ্গে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামনের মাসগুলোতে পৃথিবী আরও গরম হতে পারে এবং বাড়তে পারে খরা, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলছে, এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাড়তে পারে হিটস্ট্রোকসহ নানা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি।
ডব্লিউএমওর জুন-আগস্ট ২০২৬ এল নিনো/লা নিনা বুলেটিন অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে এ সম্ভাবনা বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছাবে। বেশিরভাগ পূর্বাভাস মডেল বলছে, এটি অন্তত মাঝারি মাত্রার হবে, শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো ইভেন্টের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, যা খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতকে আরও বাড়াবে এবং স্থল ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়াবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জুন-জুলাই-আগস্ট মৌসুমে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার আধিপত্য থাকবে। উষ্ণ সমুদ্র জলবায়ু ব্যবস্থায় তাপ ও আর্দ্রতা যোগ করে তাপপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতকে আরও খারাপ করতে পারে। কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা, কিছু অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি এবং কিছু অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের কার্যকলাপ বাড়তে বা কমতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন মানব স্বাস্থ্য, বাস্তুতন্ত্র, কৃষি ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ডব্লিউএমও আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরার হুমকি তৈরি হতে পারে।
সেলেস্তে সাউলো বলেন, চরম তাপই ইতিমধ্যে আমাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী জলবায়ু বিপদগুলোর একটি। একটি এল নিনো ইভেন্ট এই হুমকিকে আরও তীব্র করতে পারে। এতে বাড়তে পারে তাপজনিত অসুস্থতা, ভেক্টর-বাহিত রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানি ব্যবস্থার ওপর চাপ। মশা ও টিকের মতো ভেক্টরের মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা, কিছু এলাকায় খরা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বাড়ার ফলে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে যেখানে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আগে থেকেই চাপে আছে।
কিছু জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এশিয়া জুড়ে আরও গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে, যা ফসল ও খাদ্য সরবরাহের ক্ষতি করবে। সার সংকট ও জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে কৃষকরা আগে থেকেই চাপে আছেন। এল নিনোর কারণে খরা ও বন্যা খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দাম বাড়াতে পারে, যা দরিদ্র দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।
ডব্লিউএমও বলছে, মৌসুমি পূর্বাভাস কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে এটি সহায়তা করে। সংস্থাটি তাপপ্রবাহ, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার, ৯ জুন স্থানীয় সময় ভোরে হরমুজগান ও কেরমান প্রদেশের সীমান্তবর্তী সারগাজ এলাকার কাছে ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার জেরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার সকালে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার ভোরে ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক ...
সব মন্তব্য
No Comments