ডেস্ক রিপোর্ট: রমজান ঘিরে বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার পরিস্থিতি (ডলার সংকট এবং এলসি বন্ধ) ভিন্ন হওয়ায় আসন্ন রমজানে দেশি ফল খাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রমজানে ফলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অতি বিলাসবহুল বিদেশি ফল আমদানি বন্ধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার ‘পাইকারি ও খুচরা ফল ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এই আহ্বান জানিয়েছেন।
সভায় ভোক্তার ডিজি বলেন, গ্রামের একেবারে প্রত্যন্ত বাজারে গেলেও থরে থরে বিদেশি ফল সাজানো দেখা যায়। এতে দেশ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের দেশি ফলের প্রাচুর্যও কম নয়। পুষ্টির দিক দিয়েও দেশি ফল কোনো অংশে কম নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি।
তাই এবার রমজানে ভোক্তাদের বিদেশি ফলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশি ফল খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য দেশি ফলের উৎপাদন বাড়াতে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এবার ডলার সংকটের কারণে চ্যালেঞ্জ আরো বেশি হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ সব সংস্থার সম্পৃক্ততা দরকার। যাতে এ সময় সবাই সহনশীল আচরণ করে এবং খাদ্য সাশ্রয় করতে পারি।
তবে রমজানে চাহিদা মেটাতে খেজুর, মাল্টা, আঙুর, কমলার মতো কিছু বিদেশি ফল আমদানির জন্য এলসি খোলার সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এর বাইরে যেসব বিলাসী ফল রয়েছে সেগুলোর আমদানি নিরুৎসাহিত করা হবে।
ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রধান বলেন, রমজান উপলক্ষে টিসিবি ১০ হাজার টন খেজুর আমদানি করবে। সেগুলো টিসিবির ট্রাকে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া যেসব ফল ইতিমধ্যে আমদানি করা হয়েছে, সেগুলো বন্দর থেকে দ্রুত খালাসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শুধু দেশি ফল দিয়ে রমজানের চাহিদা মিটবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
সভায় বাংলাদেশ ফ্রেস ফ্রুট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর রমজান মার্চের শেষে হবে। এ সময় দেশি ফলমূল খুব একটি বেশি থাকে না। শুধু তরমুজ, কলা, আনারস, পেয়ারা ও বরই পাওয়া যাবে। দেশি ফলের ভরা মৌসুম শুরু হয় মে মাসে। তখন ফল আমদানি না করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখন ফল আমদানি না করলে চাহিদা মেটানো যাবে না।
তিনি বলেন, দেশে ফলের যে চাহিদা তার মাত্র ৩৫-৪০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়। বাকি ৬০-৬৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এ ছাড়া রমজানে ৪০ হাজার টন ফল আমদানি করতে হয়। কিছু ফল ইতিমধ্যে আমদানি করলেও এলসি বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করা যায়নি। ফলে চাহিদা অনুসারে জোগান না থাকলে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জনগণ যদি মনে করে, রমজানে বিদেশি ফলের প্রয়োজন আছে, তাহলে এলসি খুলে দিতে হবে এবং সহজে ফল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। আর যদি মনে করে দেশি ফল দিয়েই চাহিদা মেটানো যাবে তাহলে আমদানির প্রয়োজন নেই। এটা তাদের সিদ্ধান্ত।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা, শাহনাজ সুলতানা, ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম শেখসহ রাজধানীর বিভিন্ন ফল মার্কেটের ব্যবসায়ী এবং ক্যাব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা।
আমাদের সময়.কম
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চ—তিন মাধ্যমেই চাপ বাড়ছে, তবে এখনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। রেলপথে যাত্রা অনেকটা ...
বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে বাংলাদেশে ...
স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) এলাকায় যাত্রীদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সাশ্রয়ী নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। পবিত্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ট্রেনের ঈদযাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ ম ...
সব মন্তব্য
No Comments