গুড়পুকুরের মেলা
একটা পুকুর রহস্যময়, গভীর অনেকখানি
গুড়ের মতো মিষ্টি নাকি সেই পুকুরের পানি!
পুকুরপাড়ে বটের মূলে মা-মনসার ভিটা
মনসাপূঁজার গুড় বাতাসায় পুকুর হতো মিঠা।
সর্পদেবীর পুকুর ওটা, বলছে প্রাচীন পুঁথি
‘গৌড় পুকুর’ নামেও আছে নানান জনশ্রুতি।
তিনশো বছর পূর্ব থেকেই মনসাপুঁজার ধারা
কেউ জানে না একশত ভাড় গুড় ঢালত কারা!
গল্পে আছে- ক্লান্ত পথিক বসলে বটমূলে
ঘুমিয়ে গেলে বিষগোখরো থাকল ফণা তুলে।
ফণা তুলে পথিককে সে দান করল ছায়া
সূর্যটাকে আড়াল করে ছড়িয়ে দিল মায়া ।
দেখল পথিক বিষের ফণাও ত্রাণের কথা বলে
সৃষ্টি হলো মনসা পূঁজার বৃদ্ধ বটের তলে।
তিনশো বছর প্রাচীন এসব লৌকিকতায় ভেসে
গুড়পুকুরের মেলার শুরু ভাদ্র মাসের শেষে।
গুড়পুকুরের মেলা মানেই অপূর্বসব স্মৃতি
ধর্ম প্রথা ঐতিহ্যের অটুট সংস্কৃতি।
এই মেলাতে পসরা নিয়ে মধুর কোলাহলে
দেশ বিদেশের হাজার মানুষ আসত দলে দলে।
গরুরগাড়ি, বজরা বোঝাই পণ্য-পসার যোগে
সাতক্ষীরাতে সাজত মেলা সকলের উদ্যোগে।
কাঠ, মাটি, বাঁশ, বেত লোহা আর কৃষিজ ফলমূলে
প্রাণের মেলা রঙ ছড়াত প্রনসায়রের কূলে।
মেলায় পেতাম মণ্ডা-মিঠাই, খেলনা, পুতুল, বাঁশি
ফলফলারি, কদমা, পাঁপড়, ঘূর্ণি, বেলুনরাশি।
কাঠের পালঙ, মাটির বাসন, লোহার বটি, ছুরি
আলতা, কাজল, কাঁকন, ফিতা, টিকলি কাঁচের চুড়ি
বাতের মলম, দাঁতের মাজন, গাছড়া, শিকড় -বাকড়
ঘুনসি, পলা, সিঁদুর,শাখা প্রিয় মেলার আকর।
তিলের খাজা, খই, বাতাসা, মিষ্টি দধির হাঁড়ি
মেলার মাসে কন্যাবধূ আসত বাপের বাড়ি।
মায়ের কোলে দুধের শিশু, দাদুর কাঁধে নাতি
মেলায় এসে কুলপি খেতো, করত মাতামাতি।
চ্যাঙারি-বাঁক ভর্তি করে টপকে উজান নদী
ঘোল আসত, ওল আসত, আসত ছানা, দধি।
নগরদোলা সার্কাস আর যাত্রা পুতুলনাচে
দিনরাত্রি থাকত মুখর, কার তা মনে আছে?
মেলার দিনে মস্ত হাতি ঘুরত পথে পথে
ঢোল বাদ্য বাজত আহা গুড়পুকুরের রথে।
সঙ্গীতা হল, লাবনী আর রক্সি হলের গেটে
দর্শকেরা হুমড়ি খেতো ব্লাকে টিকিট কেটে।
রুপালি সেই পর্দা ছিল স্বপ্নলোকের চাবি
'বেদের মেয়ে জোছনা' আহা 'দাঙ্গা' 'রাঙাভাবি'।
হাউজি, জাদু, চরকি আজও স্মৃতির পাতায় দোলে
মনসাতলা বিবর্ণ আজ, ধুঁকছে পলাশপোলে।
কোথায় গেল লাল শৈশব রঙিন ছেলেবেলা?
শরৎমাখা শহরজুড়ে গুড়পুকুরের মেলা?
কোথায় গেলো পাটের সিকা, তালপাখা, ফুলদানি
গ্রামবাংলার মেলার খবর রাখে কি রাজধানী?
গুড়পুকুরের মেলার শোকে বেতনা আজও কাঁদে
আজকে মেলা সংকুচিত উগ্রবাদের ফাঁদে।
সেই মেলা আজ হারিয়ে গেছে মহাকালের বাঁকে
চোখ বুঁজলেই রঙিন মেলার গন্ধ ভাসে নাকে।
তিনশো বছর ঐতিহ্যের নকশী কাঁথায় বোনা
গুড়পুকুরের মেলা তোমায় কখনো ভুলব না।
ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর। এক সময়ের ব্যস্ত এই নায়িকা এখন অভিনয় থেকে অনেক দূরে। বিরতি দিয়ে মাঝে তিনটি সিনেমা ...
ডেস্ক রিপোর্ট: গত ১১ মে, সোমবার আনুমানিক রাত দশটার দিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী বাচসাস-এর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক এবং দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের বি ...
স্টাফ রিপোর্টার: ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ শীর্ষক পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্রের বিষয়ে মডেল ও অভিনেত্রী জেবা জান্নাত অভিযোগ উত্থাপন করেছেন যে, তিনি একটি একক নাটকে অভিনয়ের উদ্দেশ্যে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন ...
ডেস্ক রিপোর্ট বরেণ্য নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা ‘মঞ্চসারথি’ আতাউর রহমান সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ ...
সব মন্তব্য
No Comments