ঘূর্ণিঝড় রেমালের ছোবলে মোংলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর ক্ষতির আশংকা 

প্রকাশ : 27 May 2024
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ছোবলে মোংলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর ক্ষতির আশংকা 

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ ঘূর্ণিঝড় রেমালের ছোবলে উপদ্রুত উপকূল মোংলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২৬ মে রবিবার রাত থেকে ২৭ মে সোমবার সারাদিন তান্ডবতা চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। ঝড়ের প্রভাবে  ২ হাজার চিংড়ি ঘের ডুবে গছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৬০ হাজার মানুষ। সাইক্লোন শেল্টারে মানুষ সংখ্যা বাড়ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। বুক চিতিয়ে ঝড়ের তান্ডবতা থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছে সুন্দরবন। সমগ্র সুন্দরবন ডুবে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে বনবিভাগ। বন্দরের বিশেষ কোন ক্ষতি হয়নি। সিগনাল নেমে যাওয়ায় মোংলা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান মোংলায় ১০৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩০ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। ২৮ মে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্র গুলিতে খিচুড়ি ও শুকনা খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা জানান মোংলায় ৮ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গাছপালা ও বিদ্যুতের খুটি পড়ে গেছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন মন্ডল জানান ২ হাজার চিংড়ি ঘের জলোচ্ছ্বাসে ডুবে গেছে। খুলনা অঞ্চলের বনসংক্ষক মিহির কুমার দো গণমাধ্যমকে বলেছেন সুন্দরবন ৭ থেকে ১০ ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। মিঠাপানির পুকুর গুলি নোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। বন্যপ্রানীর ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছি। তবে গাছপালার বেশি ক্ষতি হয়নি। সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান চাকরি জীবনের ১৫ বছরে সুন্দরবনে এতো পানি কখনো দেখি নাই। আর ঝড় তান্ডবতা চালিয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। তিনি আরো জানান সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর অভিযোজন ক্ষমতা আছে। আশাকরি বন্যপ্রাণী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে। তাছাড়া বনবিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে পুকুর খনন করা হয়েছে। পুকুর পাড়ে বন্যপ্রাণী আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া বেশকিছু টিলাও করা হয়েছে বন্যপ্রাণীর আশ্রয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে। মোংলা বন্দরের বিশেষ কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষর হারবার মাষ্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি আরো জানিয়েছেন সিগনাল যেহেতু তিন নাম্বারে নেমে এসেছে তাই বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান আছে।

সম্পর্কিত খবর

;