সৈয়দ রাসেল আহমদ,সিলেট অফিস: ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে সিলেটে চলমান বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এক এলাকায় বন্যার পানি কমছে ও আবার অন্য এলাকায় বাড়ছে। ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে বানভাসি মানুষের।
সুরমা কুশিয়ারার পানি কোথাও এক সেন্টিমিন্টার কমছে ও অন্য পয়েন্টে বাড়ছে।এতে আতংকে রয়েছেন সিলেটের লাখো মানুষ।
সিলেট, জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ, সুরমা কুশিয়ারার সব পয়েন্টে বৃহস্পতিবার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উজান থেকে পানি নামতে থাকায় নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদী ও হাওড়াঞ্চল পানিতে ভরপুর থাকায় দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি।
নগরের ভেতরে বিভিন্ন এলাকা শুক্রবার দিন পর্যন্ত জলাবদ্ধ অবস্থায় আছে। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অনেকেই আবার ঠাঁই নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে। ২৯ মে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে প্রথম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৮ জুনের পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে ১৬ জুন। পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। পরে নগরীসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় বন্যা হয়। গত ১৯ জুন ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা দেখা দেয়। ২৫ জুন থেকে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। এরই মধ্যে গত সোমবার থেকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ নেই শুধু সিলেট সদর, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জে বন্যার পানি নামছে। ওসমানী নগর, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। গোলাপগঞ্জে প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে অঘোষিত ছুটি। বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না। ফলে বিদ্যালয় গুলোতে ঝুলছে তালা।
এমন অবস্থায় জনজীবনেও ব্যপাক প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে খেটে-খাওয়া মানুষদের পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়, এক মাসের মধ্যে ৩টি বন্যায় কাজ শূন্য অবস্থায় জীবন যাপন করতে হচ্ছে দিনমজুর - খেটে খাওয়া মানুষদের। জেলে সম্প্রদায়ের মানুষজন মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারলেও অন্যান্য পেশার শ্রমজীবীদের মধ্যে হতাশার ছাপ দেখা গিয়েছে।
এমনকি সিলেট শহরে রিকশা ভ্যান চালকদের মধ্যেও পড়েছে বন্যার প্রভাব,শহরের দিনমজুর বেশিরভাগ মানুষই শহরের আশেপাশে নিম্নাঞ্চলে তৈরি বাসাবাড়িতে বসবাস করেন,নিম্নাঞ্চল হলেও বাসা ভাড়া কম হওয়ায় তারা এসব জায়গা বেছে নেন। তবে যখনই বন্যা আসে তখন অন্যান্যদের মতো তাদেরকেও বন্যা মোকাবেলা করতে হয়। একদিকে বাসা বাড়িতে পানি, অন্যদিকে যাত্রী সংকটও তৈরি হয়।
এদিকে সিলেটে এতো ঘনঘন বন্যার কারণ নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। কেউ মিঠামইন বাঁধকে দোষারোপ করছেন আবার কেউ নদী ভড়াটকেই দায়ী করছেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবী, যে সমস্যাই হোক, এর একটি স্থায়ী সমাধান হোক।
মোঃ রায়হান উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাবলম্বিতা অর্জন ও পারিবারিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যয় নিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের ...
বিজয় রায়, রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক রামরায় (রাণীসাগর) দিঘিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।শনিবার (২৪ অক্টোবর) ...
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ স্বামীহারা শিল্পী বেগম। তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এই পরিবারের একমাত্র আশ্রয় ছিল জরাজীর্ণ একটি ঘর। বৃষ্টির পানি পড়ত চাল দিয়ে। রাত নামলেই ...
বরিশাল অফিস: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭) মারা গেছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপ ...
সব মন্তব্য
No Comments