রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 16 Sep 2025
রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: কতিপয় ব্যবসায়ী ও গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য প্রনীত স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন আইন) ৪৫ নং অধ্যাদেশ বাতিল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা(ই-রিকশা)নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখা আজ ১৬ সেপ্টেম্বর  সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সহ-সভাপতি জালাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কাদির, হাসনাত কবির, ঢাকা মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক রোখসানা আফরোজা আশা, সদস্য সেকান্দার আলী, আখতার হোসেন, শাহজাহান মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ৫০ লাখ চালকসহ ৬০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা ও তাদের উপর নির্ভরশীল প্রায় ২.৫/৩ কোটি মানুষ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উপর নির্ভরশীল। গত ১২ বছর ধরে সংগ্রাম পরিষদ একটি নীতিমালা তৈরি করে সারাদেশের ব্যাটারিচালিত/ইলেকট্রিক যানবাহনকে নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স, রুট পারমিট প্রদান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্বল্প গতির ও লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন/সার্ভিস রোড নির্মান, চালকসহ সংশ্লিষ্টদের ট্রাফিক আইন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। সর্বশেষ ২ টিসহ গত ৫/৭ বছরে ব্যাটারিচালিত/ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য ৪ টি নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইলেকট্রিক মোটরযান ও রেজিষ্ট্রেশন চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩ কার্যকর হয়েছে। বাকি ৩ টির মধ্যে "থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২৪" ২০১৮ সাল থেকে নানা পর্যায় পেরিয়ে এখনও চুড়ান্ত হয়নি, সকল মতামত নিয়ে খসড়া চুড়ান্ত আকারে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এখন জমা আছে। নতুন করে গত জুন মাসে বিআরটিএ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ,২০২৫ নামে একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তাব করেছে এবং তারা সবার মতামত চেয়েছে। এরই মধ্যে ২৮ আগষ্ট কোন অংশীজনের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার আইন(সিটি কর্পোরেশন) অধ্যাদেশ নং ৪৫, ২০২৫ সংশোধন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের অধীন সিটি কর্পোরেশন সমুহে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে স্বল্পগতি যানবাহন আখ্যা দিয়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলে অনুমোদন বা লাইসেন্স প্রদান করতে পারবে।কোন নীতিমালা যদি জনস্বার্থে বা চালকদের স্বার্থে করা হয় তাহলে গত রাখ-ঢাখ কেন? এই নীতিমালা ব্যাটারিচালিত যানবাহন বান্ধব নয়। এটা পুরোটাই আমলা নির্ভর, কতিপয় ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠী স্বার্থে এটা করা হয়েছে। যার কারনেই এটা নিয়ে তড়িঘড়ি বা গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরোও বলেন, কোন প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন, দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনবল ছাড়াই এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে সিটি কর্পোরেশনকে বিআরটিএ কাজে লিপ্ত করার এই গনবিরোধী সিদ্ধান্ত, স্থানীয় সরকার আইন((সিটি কর্পোরেশন) সংশোধন বাতিল করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সকল ওয়ার্ডে তথাকথিত রিকশা চালক মালিকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। সকল নীতিমালা পর্যালোচনা করে বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, থ্রি--হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান নীতিমালার আলোকে এবং সংগ্রাম পরিষদের সংশোধন-সংযোজনী প্রস্তাবনা গ্রহন করে ও সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বিআরটিএর অধীনে ঢাকাসহ সারাদেশে একটি অভিন্ন ও সমন্বিত নীতিমালা চুড়ান্ত করতে হবে। ৬০ লাখ মানুষের জীবন- জীবিকা ও তাদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামীতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য প্রনীত নীতিমালায় নিন্মোক্ত বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমানে চলমান ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকের মোডিফাইড(পরিবর্তন) বা Reaplesment করার জন্য অন্তত ২ বছর সময় দিতে হবে।নীতিমালার নামে ব্যাটারিচালিত/ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদন, বিপননে একচেটিয়া ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের সুবিধা দেয়া যাবে না। স্থানীয় উৎপাদকদের বিআরটিএ বা সরকার অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত যানবাহন উৎপাদন ও বিপননের অনুমতি প্রদান করতে হবে। স্থানীয় মেকানিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।নীতিমালায় এ বিষয়গুলো যুক্ত করা না হলে দেশের ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকসহ সংশ্লিষ্টরা কোন নীতিমালা গ্রহন করবে না এবং চালকসহ সংশ্লিষ্ট ৬০ লাখ মানুষ ও দেশের আপামর জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দেশের কতিপয় ব্যবসায়ী ও গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রনীত গনবিরোধী স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন আইন) ৪৫ নং অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা(ই-রিকশা) নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলারও হুশিয়ারি উচ্চারন করেন।


সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব, তোপখানা রোড, পল্টন মোড় , সেগুনবাগিচাসহ ঢাকার রাজপথ প্রদক্ষিন করে।

সম্পর্কিত খবর

;