জোরপূর্বক চাকরি থেকে পদত্যাগ করানো প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে পুনর্বহালের দাবি সহকারী শিক্ষক সমিতির

প্রকাশ : 26 Aug 2024
জোরপূর্বক চাকরি থেকে পদত্যাগ করানো প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে পুনর্বহালের দাবি সহকারী শিক্ষক সমিতির

ডেস্ক রিপোর্ট:  ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে বেআইনিভাবে পদত্যাগ করানো হচ্ছে এবং অপমান-নির্যাতন করছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি।

এ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির ভার্চুয়াল সভা গত ২৩ আগস্ট রাত ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নূরে আলম বিপ্লবের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অমৃত কারণ, সুশান্ত ভাওয়াল, ও মো. আব্দুস সোবহান মিয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তমাল দাস লিটন, অর্থ সম্পাদক নিরঞ্জন সরকার, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফয়েজুল হক ফয়েজ, কেন্দ্রীয় সদস্য পরিমল চন্দ্র ঢালী ও  বাশার আল হামিদ।


সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন অপশক্তির হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর ব্যানারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের নাজেহাল করছে। অপমান-অপদস্হ করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পদত্যাগ করানোর পর ন্যাক্কারজনকভাবে উপহাস-বিদ্রুপ করছে। চরম হেনস্তা করে শিক্ষকদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করছে, মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে।

শিক্ষকদেরকে এমনভাবে অপমান করা, মর্যাদা হানি করা বিশ্বের কোনো দেশে এ পর্যন্ত হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই।


কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি কোন অনিয়ম করে থাকে তা অভিযোগ করার সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিয়োগ করে এর প্রতিকার চাইতে পারে। এভাবে কোন শিক্ষককে অপদস্হ করা এটা একপ্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। যারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে এসব হীন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

¬¬

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শিক্ষার্থী কর্তৃক এমন সব অপকর্ম সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং এর দায় তাদের উপর যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেখলামনা যারা এ ধরনের ন্যাক্কারজন আচরণ করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে। যা খুবই দুঃখজনক ও হতাশাজনক।


নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জোরপূর্বক ও বলপ্রয়োগ করে পদত্যাগ করানো প্রধানশিক্ষকদেরকে স্বপদে বহাল করতে  এবং এগুলোর যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। দেশের এ ক্রান্তিকালে আমরা সুষ্ঠু সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ দেখতে চাই এবং শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর ও সাবলীল দেখতে চাই। অন্যথায় শিক্ষকরা তাদের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার্থে রাজপথে আন্দোলনে নেমে পড়বে।

সম্পর্কিত খবর

;