কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রতি বছরের মতো এবারও কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়রে শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহ.) মাজারে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কুড়িগাই মেলা। এ মেলার পেছনে রয়েছে শত বছরের ইতিহাস। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও মেলা শুরু হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক এই মেলাকে ঘিরে এক সপ্তাহ আগে-ভাগেই জনসমাগমের আগমন ঘটেছে। মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলা শুরু হয়, চলবে ১০ দিনব্যাপী। কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা সদর থেকে ৩ কি.মি. ভিতরে পল্লী গ্রাম কুড়িগাই এ মেলাটি শুরু হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাই শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহ.) মাজারে এ মেলা শুরু হয়। বাউল সাধকদের আধ্যাত্মিক গান ও সুরের মূর্ছনায় মেলা প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবহ। মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়। সাতদিন ব্যাপী এ মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান আসা ফকির, দরবেশ, আশেকান ভক্তসহ প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষের আগমন ঘটে। ৩৬০ জন আউয়ালিয়ার শিরোমনি শাহ জালালের (রহ.) সফর সঙ্গী হযরত শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহ.) বাংলা ১২২৫ সালে তিনজন সঙ্গী নিয়ে কটিয়াদী উপজেলার কুড়িখাই অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন এবং তিনিই এ অঞ্চলের প্রথম ইসলাম ধর্মের প্রচারক। এছাড়া তিনি ছিলেন বার আউলিয়ার একজন।
উপজেলার কুড়িখাই মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানপাট বসেছে। কাঠের আসবাবপত্র, শিশুদের খেলনা, দৈনন্দিন পণ্যসামগ্রী, মেয়েদের সাজগোজের জিনিসপত্র পাওয়া যায় এ মেলায়। রয়েছে নানান স্বাদের খাবারের দোকানও। বিন্নি ধানের খই, কদমা, বাতাসা, গুড়, জিলাপির দোকান। মেলায় নানা বয়সের মানুষের বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, সার্কাস, মৃত্যুকূপ, নাগরদোলার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ মেলা। মেলায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মাছের হাট। মেলায় বিশাল এলাকাজুড়ে বসে মাছের হাট। এই হাটে বোয়াল, চিতল, আইড়, রুই, কাতল, সিলভার কার্পস, পাঙাস, মাগুর, বাঘাইরসহ নানা ধরনের অন্তত চার শতাধিক মাছের দোকান বসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই মেলা থেকে মাছ কিনতে আসেন ক্রেতারা। তবে দাওয়াতি জামাইরাই এসব মাছের মূলক্রেতা। মাছ বিক্রেতারা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কটিয়াদী উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মো: মাজহারুল হক জাকির বলেন, প্রতি বছরই কিশোরগঞ্জ জেলার পাশ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ আসে। তিনি বলেন, কুড়িগাই মেলায় নতুন জামাইদের মাছ নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার রীতি রয়েছে এলাকায়। মেলার আশপাশের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এলাকায় জামাই ও আত্মীয়দের দাওয়াত দেওয়া হয়। আর মাছ দিয়েই জামাইদের বরণ করা হয়। তাছাড়া বউ মেলারও আয়োজন করা হয়। সেখানে এলাকার নারীরা আসেন। কেনাকাটা ও আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন তারা।
জানা গেছে, প্রায় চারশ বছর আগে কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাই এলাকায় আস্তানা গাড়েন ১২ আউলিয়ার অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শাহ সামছুদ্দীন আউলিয়া সুলতানুল বুখারি (রহ.)। তার মৃত্যুর পর সেখানে গড়ে ওঠে মাজার। প্রতি বছর হজরত শাহ সামছুদ্দীন আউলিয়া সুলতানুল বুখারি (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে বাৎসরিক উরস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুরিদ ও সাধকরা এখানে জড়ো হন। সেই থেকে মাজার সংলগ্ন খোলা ময়দানে প্রতি বছর বসে কুড়িখাই মেলা। শত বছরের পুরোনো এ মেলায় ঢল নামে লাখো মানুষের। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে কাঠের আসবাবপত্র, মাটির তৈরি জিনিসপত্র,ছোটদের জন্য বিভিন্ন খেলনা, নানা রকমের মিষ্টি, মিঠাই-মণ্ডা, মুড়ি, বিন্নি খৈসহ হরেক রকমের মুখরোচক খাবার, ক্রোকারীজ ও কসমেটিক্স সামগ্রী । এছাড়াও সাকার্স, পুতুল নাচ, নাগরদোলাসহ আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন বিনোদনের। নানা শ্রেণি আর বয়সের লোকজন মেলায় আসছেন। বড়দের হাত ধরে মেলায় আসছে শিশুরাও। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের ৫০টি গ্রামে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রায় পঞ্চাশ একর জায়গা জুড়ে মেলার স্টল বসেছে। সবকিছু ছাপিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, মেলায় বসা মাছের বাজার। লোকমুখে কথিত রযেছে, কুড়িখাই মেলার বোয়াল মাছ খেলে সে বছরের জন্য শনির দশা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। মেলাকে উপলক্ষ্য করে প্রত্যেক বাড়িতে জামাইদের দাওয়াতের প্রচলন রয়েছে। এ মেলার মাছে নতুন জামাইকে বরণ করে নেওয়া হয়। এলাকার রীতি অনুযায়ী জামাইরা এ মেলা চলার সময় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। মেলা থেকে সবচেয়ে ভালো ও বড় আকারের মাছটি কিনে তবেই তারা যাবেন শ্বশুরবাড়িতে। তাই দেশের নানা এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা মাছের পসরা নিয়ে বসেছেন মেলা প্রাঙ্গণে। কে সবচেয়ে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাবেন, এ নিয়ে জামাইদের মধ্যে চলে নিরব প্রতিযোগিতা। মেলার শেষ দুইদিন বসে বউমেলা। এটি মেলার বিশেষ আকর্ষণ। এ দুইদিন শুধু বিভিন্ন বয়সের নারীরা মেলায় এসে কেনাকাটা করে থাকেন। মুমুরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মেলা উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক মো: হাদিউল ইসলাম জানান কয়েক শত বছরের পুরনো কুড়িগাই মেলাটি আমাদের এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। মেলার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মেলায় আসা দোকানিদের অভিযোগ হচ্ছে, জায়গা পেতে তাদের মোটা অংকের টাকা দিতে হয় মেলা কমিটিকে। আশপাশের জায়গার মালিকরাও অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। ফলে এর প্রভাব পড়ে জিনিসপত্রের দামে। এছাড়াও মেলায় চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা। হযরত শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহ.) আউলিয়ার ওরস উপলক্ষে কুড়িখাই মেলাটি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলের লোকজনের মিলন মেলা। আর তাই এর ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।
নিতিশ চন্দ্র বর্মন পঞ্চগড়: তেঁতুলিয়ায় মাদকদ্রব্য ইয়াবাসহ শাহজামাল (৩২) নামের এক যুবককে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে শালবাহান ইউনিয়নের
নামাগছ গ্রামস্থ দ ...
মোংলা অফিস: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়া এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর সময়ের দাবি। বর্তমানে যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দ ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় গৃহবধূ সোমা আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। রোববার সকালে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ...
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার ফিলিপনগর পি.এস.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ...
সব মন্তব্য
No Comments