আলোচনায় ডিএমপি কমিশনার আছাদের নারী কেলেঙ্কারি ও হাজার কোটি টাকার সম্পদ

প্রকাশ : 12 Aug 2024
আলোচনায় ডিএমপি কমিশনার আছাদের নারী কেলেঙ্কারি ও হাজার কোটি টাকার সম্পদ


স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বেশ কয়েকটি নারী কেলেঙ্কারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেসব অডিও রেকর্ডে পুলিশের সাবেক এ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ করতে শোনা যায়। যা নিয়ে সব মহল ধিক্কার দিচ্ছে সাবেক এই দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশ কর্মকর্তাকে।


অভিযোগ রয়েছে, আছাদ পছন্দমাফিক কতিপয় অধস্তন নারী অফিসারদের নিজ অফিসে ডেকে নিয়ে যেতেন। কখনোবা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় একান্ত সময় কাটাতেন। পুলিশের কতিপয় নারী সদস্যকে বাধ্য করতেন যৌন সম্পর্কে জড়াতে।


আছাদুজ্জামান বছরের পর বছর এমন অনেক নারীর সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্কে জড়ানোর নেশায় মেতেছিলেন। কিছু নারী পুলিশ কর্মকর্তাও পদোন্নতি, অর্থবিত্ত আর অবৈধ প্রভাব বিস্তারের নেশায় তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেন।


পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকাকালীন আছাদুজ্জামানে নারী লিপ্সা বাহিনীটির নৈতিক মানও ধ্বংস করেছে। ডিএমপি কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, একের পর এক এমন অনেক অপকর্মও করে গেছেন।


ভাইরাল হওয়া টেলিফোন আলাপে তার এসব অপকর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এসব কলরেকর্ড বলছে, একাধিক নারীকে ফোনেই বাধ্য করতেন যৌন সম্পর্কে জড়াতে।


আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে পুলিশ প্রশাসনে নানা রকম দুর্নীতি হয়েছিল। এসবের পেছনে থাকা রাঘববোয়ালরা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। তবে ক্ষমতার পালাবদলে এখন সেসব পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি একের পর এক বেরিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান।


আছাদুজ্জামান মিয়ার অবৈধ সম্পদ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক খবর প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সম্পদের পাহাড়। অনেক সম্পদের নথি ধরে সরেজমিনে সেসবের সত্যতাও মিলেছে। তবে রহস্যজনক কারণে দুদক এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।


আছাদুজ্জামান ও স্ত্রী-ছেলে-মেয়ের নামে কোথায় কী সম্পদ-

প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, আছাদুজ্জামান মিয়ার নামে সাড়ে ৭ কাঠা প্লট রয়েছে। আফতাবনগরে আছে ৬ কাঠা প্লট। পুলিশ হাউজিংয়ে আছে ৬ দশমিক ৯ কাঠা প্লট। সাভারে রয়েছে ২ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট। পূর্বাচল ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩ কাঠা প্লট। পূর্বাচল ৮ নম্বর সেক্টরের ১০৮ নম্বর রোডে ৫ কাঠা আয়তনের ৫২ নম্বর প্লটটিও আছাদুজ্জামানের। মূল্য অনুযায়ী, এসব জমির প্রতি কাঠার দাম কোটি টাকা।


এছাড়া আছাদুজ্জামানের রয়েছে ৩২২ শতাংশ জমি। একইভাবে আরও ৬৮ ও ২১৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যা তিনি বোনদের কাছ থেকে দানসূত্রে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার বোনেরা জমি দান করার মতো স্বচ্ছল নন। এসব জমির বাইরেও আছাদুজ্জামানের নামে আরও ৫৭ শতাংশ জমি আছে। এছাড়া ফরিদপুরের গ্রামে আছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি।


এছাড়া আছাদুজ্জামান অবৈধ অর্থে দেশের পাশাপাশি আমেরিকা, আরব আমিরাতসহ প্রবাসেও অনেক প্রপার্টি কিনেছেন। নানা কোশলে অনেক কালোটাকা সাদাও করেছেন।


গৃহিনী স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট-প্লটের ছড়াছড়ি

আছাদুজ্জামানের স্ত্রী আফরোজা জামান পুরোদস্তুর গৃহিনী এবং তার নিজস্ব কোনো আয় নেই। তবে সম্পদে পিছিয়ে নেই। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক দামি ফ্ল্যাট, প্লট, ৫০ কোটি টাকা দামের আলিশান বাড়ি এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জে ও নারায়ণগঞ্জে কোটি-কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে তার নামে।


আফেরোজার নামে রাজধানীর ধানমন্ডির ১২/এ-তে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আছে। আরেক দামি এলাকা ইস্কাটনেও ফ্ল্যাট আছে তার। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকে ১০ কাঠা জমির ওপর ৬ তলবিশিষ্ট বিশাল বাড়িও রয়েছে।


আফরোজা জামান ২০১৮ সালে রাজউক থেকে একটি প্লট বিশেষ কোটায় বরাদ্দ নেন। অথচ, রাজউকের নীতিমালা অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্লট বরাদ্দ নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু গৃহিনী হয়েও বিশেষ কোটায় আফরোজা প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়াও পূর্বাচল ১ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডে ২৯ নম্বর প্লট ছিল তার নামে, যেটি ২০২৩ সালে তিনি সেটি বিক্রি করে দেন।


গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চাঁদখোলা মৌজায় আফরোজা জামানের নামে ৪১ শতাংশ জমি রয়েছে, যা কেনা হয় ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর (ডিড নম্বর: ৯৯৯৮/১৭)। একই বছরের ১৬ নভেম্বর একই মৌজায় তার নামে কেনা হয় আরও ২৬ শতাংশ জমি (ডিড নম্বর: ১০৪৭২/১৭)। একই মৌজায় তার নামে ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কেনা হয় আরও ৩৯ শতাংশ জমি (ডিড নম্বর: ১১২৮)।


আছাদুজ্জামানের স্ত্রীর নামে ২০২০ সালে জোয়ার সাহারা মৌজায় ৫ কাঠা জমি (ডিড নম্বর: ৫২৩২/২০) কেনা হয়। একই বছরে একই মৌজায় কেনা হয় আরও ১০ কাঠা জমি (ডিড নম্বর: ৯৬৯৫) এবং সেটির ওপর ৬ তলা বাড়ি। একই বছরে গাজীপুরের চাঁদখোলা মৌজায় তিনি কেনেন আরও ৩৯ শতক জমি (ডিড নম্বর: ১০৬৬/২০)।


আফরোজা জামান ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কৈয়ামসাইর-কায়েতপাড়া মৌজায় দশমিক ২৮ একর জমি (ডিড নম্বর: ১৩১৯০/১৮) জমি কেনেন। একই বছরে একই মৌজায় আরও ৩২ শতক জমি (ডিড নম্বর: ১৩১৮৯/১৮) জমি কেনেন তিনি। একই বছরে রূপগঞ্জের কৈয়ামসাইর-কায়েতপাড়া মৌজায় দশমিক ৬০ একর জমি (ডিড নম্বর: ১৪৫২০/১৮) তার নামে কেনা হয়। এটি অবশ্য পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।


এছাড়াও ২০১৯ সালে কৈয়ামসাইর-কায়েতপাড়া মৌজায় দশমিক ৫৭ একর জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পান আসাদের স্ত্রী। (ডিড নম্বর: ১০২৬/১৯)। কৌশলে একই বছরে আবার সেই জমি বিক্রিও করেন।


বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে আফরোজা জামানের যে বিপুল পরিমাণ জমি কেবল সেগুলির বর্তমান বাজারমূল্যই শত-শত কোটি টাকা। অথচ, তার মতো একজন গৃহিনীর পক্ষে এত জমি কেনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।


আছাদের স্ত্রী দুটি কোম্পানির অংশীদার

আছাদুজ্জামানের স্ত্রী আফরোজা দুটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারও। এর মধ্যে মৌমিতা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড নামে একটি পরিবহন কোম্পানিতে তার ১০০ টাকা মূল্যের চার হাজার শেয়ার আছে।


উল্লেখ্য যে, আছাদুজ্জামান ডিএমপি কমিশনার থাকাকালীন রাজধানীর রুট পারমিট কমিটির প্রধানও ছিলেন। সেসময় তিনি মৌমিতা পরিবহনকে রুট পারমিট দেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন কোম্পানিকে অর্থের বিনিময়ে রুট পারমিট দেন।


এছাড়া শেপিয়ার্ড কনসোর্টিয়াম লিমিটেড নামের আরেকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান আফরোজা জামান। অথচ তিনি একজন আগাগোড়া গৃহবধূ, যার কোনো নিজস্ব পেশা ছিল না। এই কোম্পানির পরিচালক আছাদুজ্জামানের বড় ছেলে আসিফ শাহাদাত।


আফরোজা জামানের সৎ ভাই অর্থাৎ আছাদুজ্জামানের শ্যালক হারিসুর রহমান সোহান তার ভিজিটিং কার্ডে নিজেকে মৌমিতা পরিবহন লিমিটেড, গুলশান চাকা লিমিটেড, গোমতী পরিবহন লিমিটেড নামে তিনটি কোম্পানির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি নিজেকে পিওর গোল্ড লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়েছেন। শ্যালকের এসব ব্যবসায় আছাদুজ্জামানই বিনিয়োগকারী।


তিন ছেলে-মেয়ের নামে বিপুল সম্পদ

আছাদুজ্জামানের একমাত্র মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। বয়স মাত্র ৩১। তার নামেও প্লট-ফ্ল্যাটের ছড়াছড়ি। এর মধ্যে তার নামে রয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের রামচাঁদপুর মৌজায় ৫ কাঠা জমি, সিদ্ধেশ্বরীতে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলের ১ নম্বর সেক্টরের ৪০৬/বি সড়কে ৩ নম্বর প্লটে ১০ কাঠা জমি।


প্রাপ্ত নথিতে দেখা গেছে, আয়েশা সিদ্দিকা ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি কালোটাকা সাদা করেছেন। অথচ তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর এবং তখন তিনি ছিলেন শিক্ষার্থী।


বড় ছেলে আসিফ শাহাদাতের নামে ১ দশমিক ৬৫ একর জমি রয়েছে। পূর্বাচল নিউ টাউনে ৬ নম্বর প্লটে সাড়ে ৭ কাঠা জমি, আফতাবনগরে ৫ কাঠা ও রূপগঞ্জে ৪ কাঠা ৬ ছটাক জমি রয়েছে। এছাড়াও তার জমি রয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গাতে।


আছাদুজ্জামানের ছোট ছেলে আসিফ মাহাদীন পড়াশুনা করেন যুক্তরাষ্ট্রে। শিক্ষার্থী হলেও নিকুঞ্জ আবাসিকের ৮/এ রোডের ৬ নম্বর বাড়িটির মালিক তিনি। ছোট ছেলের নামে আমেরিকায় বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন আছাদুজ্জামান।


শ্যালক-শ্যালিকা-ভাগনেও সম্পদশালী

আছাদুজ্জামানের এক শ্যালক নূর আলম ওরফে মিলন। তার নামে গাজীপুরের শ্রীপুরে দেড় একর জমি রয়েছে। অথচ, আজীবন গ্রামে থাকা মিলনের নির্দিষ্ট কোনো আয় নেই। তবুও বেকার মিলন কয়েক কোটি টাকা দামের জমির মালিক।


ভাগনে কলমের নামেও গাজীপুরে জমি আছে দেড় একর। কলমও গ্রামের বাসিন্দা। তবুও তিনি বনে গেছেন কয়েক কোটি টাকা দামের জমির মালিক। এই কলম আবার আছাদুজ্জামানের গ্রামের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক।


আছাদুজ্জামানের স্ত্রী আফরোজার সৎ ভাই হারিসুর রহমান সোহানের ৬টি জাহাজ রয়েছে। এছাড়াও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে তার কয়েকশ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। পিওর গোল্ড লিমিটেড নামে স্বর্ণের দোকানও আছে তার।


একাধিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগও আছে সোহানের। মৌমিতা পরিবহন, মধুমতি পরিবহন, গুলশান চাকাসহ বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে সোহানের বিনিয়োগে মূলত আছাদুজ্জামানই অর্থদাতা।


সোহানের নামে রাজধানীর অভিজাত বেইলি রোড, শাহজাহানপুরে ফ্ল্যাট রয়েছে। বনশ্রী ও আফতাবনগরে একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে বনশ্রীর একটি প্লটে বাড়ির নির্মাণকাজও চলছে।


এছাড়া চলতি বছরের ১৫ মে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভায় তারা মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর ছেলের কাছ থেকে ৩০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে সোহানের নামে। ৩ কোটি টাকা দিয়ে ওই জমি মূলত আছাদুজ্জামানই কিনেছেন শ্যালক সোহানের নামে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আছাদুজ্জামানের বাবার সুনির্দষ্ট কোনো পেশা ছিল না। গ্রামে সামান্য কিছু জমিজমা ছিল। সেসব দিয়ে তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। অর্থাৎ, বিপুল পরিমাণ জমিজমার মালিক বা অর্থ-বিত্তশালী অবস্থা তাদের ছিল না।


দুদক কমিশনার জহুরুল হক গত জুনের শেষ দিকে বলেছিলেন, ‘আছাদুজ্জামান মিয়ার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেলে দুদক ব্যবস্থা নেবে।’ তবে দেড় মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আছাদুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে দুদককে নোটিশও দিয়েছে। এরপরও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান শুরু করেনি। কেন করেনি সেই কারণও খুব একটা স্পষ্ট নয়।


দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, আস্থা নিয়ে পুলিশের উচ্চ পদে আসীন কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে, বাহিনীটিতে শুদ্ধি অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে।


এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ—টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক আশীর্বাদ ছাড়া এ ধরনের দুর্বৃত্তায়ন সম্ভব নয়। একদিকে প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ অবস্থান অপরদিকে রাজনৈতিক আশীর্বাদ একত্রিত হয়ে তাদের দুর্নীতি এবং অসামঞ্জস্য আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা আইনের সুরক্ষার পরিবর্তে ভক্ষক হয়ে গেছেন। তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রক। তার মানে তারা জানেন কোন অপরাধ কীভাবে করতে হয়। এটা জেনে বুঝেই করেছেন।


ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকর্তারা যে অপরাধগুলো করেছেন প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু এক ধরনের সহযোগী আছে। তাদের অনেকেই হয়তো জেনে বা না জেনে অংশীদার হয়েছেন। এ অবস্থায় সব অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কোনো ম্যাজিক বুলেট নেই।


আছাদুজ্জামান মিয়ার নানা রকম কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে জোর চর্চা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। কেবল দুর্নীতি আর সম্পদ গড়েই ক্ষান্ত হননি আছাদুজ্জামান মিয়া। শেখ হাসিনা সরকারের চাটুকারিতা করে বাগিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনারের পদ।


পুলিশের চাকরির মেয়াদ শেষ হলে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে আছাদুজ্জামানকে নিয়োগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে নিয়োগের তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।


বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য ও নারী কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হওয়ার আগেই পালিয়েছেন সুচতুর ধুরন্ধর এই ঘুষ-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আছাদুজ্জামানের ছোট ছেলে আসিফ মাহাদিনের নিকুঞ্জের বাড়িতে ভাংচুর-হামলা চালায়। এছাড়াও ফরিদপুরে আছাদের দখল থেকে বিপুল জমি উদ্ধার করেছে প্রকৃত মালিক এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

সম্পর্কিত খবর

;