সুমন আদিত্য,জামালপুর প্রতিনিধিঃ ‘পাট-সরিষা-গরুর গাড়ি’ এই নিয়ে সরিষাবাড়ী। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষা আবাদের অস্তিত্ব টিকে থাকলেও পাটশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় সব পাটকল। শ্রমিকদের বহু আন্দোলন সংগ্রামের পর কিছুদিনের জন্য পাটকলগুলো চালু হলেও আবার তা বন্ধ হয়ে যায়।
একদিকে সোনালি আঁশ, অন্যদিকে রূপালি কাঠি-দুইয়ে মিলে সম্ভাবনাময় শিল্প পাট। সারাবিশ্বে পাটের ব্যাগের চাহিদাই রয়েছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন। অথচ এমন একটি সম্ভাবনাময় শিল্প ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে এলাকাবাসী স্থানীয় রাজনীতির সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, সরিষাবাড়ী বাণিজ্যিক রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে উপমহাদেশের দেশগুলোর কাছে খুবই পরিচিতি ছিলো এবং পাট ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে নারায়ণগঞ্জের পরেই ছিলো সরিষাবাড়ী স্থান। এজন্য সরিষাবাড়ীকে বলা হতো প্রাচ্যের দ্বিতীয় ডান্ডি।
জানা গেছে,সরিষাবাড়ীতে ২২ টি পাটের কুঠির সাথে ছিল চারটি জুটমিল। আলহাজ্ব জুট মিলস, এ আর এ জুট মিলস, পপুলার জুট মিলস এবং মিমকো জুট মিলস। কুঠিগুলো অনেক পূর্বে বন্ধ হলেও জুটমিল গুলো টিকে ছিল তিন বছর আগ পর্যন্ত। শুধু মাত্র আলহাজ্ব জুট মিলে শ্রমিকদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০০ । বিভিন্ন জুট মিলে কর্মরত শ্রমিক ছিল প্রায় ৭০০০।
সাত হাজার শ্রমিক জুট মিলে কাজ করতো অর্থাৎ সাত হাজার পরিবার চলতো। প্রতি পরিবারে চারজন করে মানুষ থাকলেও ২৮০০০ মানুষ সরাসরি জুট মিলের উপর নির্ভর করে চলতো। সেই সাথে পাট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিকও ছিল এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল। জুটমিলকে কেন্দ্র করে আশে পাশে গড়ে উঠা দোকানপাট সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৪০,০০০ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এই চারটা জুট মিলের উপর নির্ভরশীল ছিলো।এখন তারা বেছে নিয়েছে অন্য পেশা, অনেকে হয়েছে বেকার।
রেলওয়ে কলোনি ও জুট মিলগুলির আশেপাশে বসবাসরত শ্রমিক পরিবারগুলি জানান, একটা সময় এই উপজেলায় খুবই উন্নত জাতের পাটের আবাদ হতো। পাটের আবাদ বেশি হওয়ায় আলহাজ জুট মিলস, পপুলার জুট মিলস, ইস্পাহানী জুট বেলার্স,মিমকো জুট বেলার্স,বিজেএমসি, বিজেসিসহ আরও অনেক সংস্থা পাটের ব্যবসা শুরু করে। এই মিলগুলোতে আমরা প্রায় ২০-২২ বছর কাজ করেছি, তখন খুবই ভালো চলেছি, এখন সন্তান নিয়ে কিভাবে চলি, কেউ তো খোঁজ রাখে না। এখন আমরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
আলহাজ জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি মোঃ সামিউল হক জানান, জুটমিলগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো, এখন তাদের মাঝে কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করছে, মূলত শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধের অভাব, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং সরকারের অনীহার কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার পথে দ্বিতীয় ডান্ডি খ্যাত সরিষাবাড়ীর পাটশিল্প।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসা জানান, এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, ব্যবস্থা নেওয়া হলে জানানো হবে।
স্হানীয় এমপি ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এবং সরিষাবাড়ী নীতি নির্ধারকদের মাধ্যমে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্য ফেরানোর জন্য সরিষাবাড়ির সচেতন মহল ও গুনীজনরা আহবান জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, ০১ জানুয়ারি ২০০৮ বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণকারী এবং ২৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ভোটার ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে খসড়া ভোটার ...
স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এ উপলক্ষে হজযাত্রীদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
...
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুরো শহরকে ...
স্টাফ রিপোর্টার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ ...
সব মন্তব্য
No Comments